ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


আমি রেঙ্গুন যাব

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২০      

গল্প লিখেছেন আনিসুর রহমান ছবি এঁকেছেন রজত

রেঙ্গুনের অনেক গল্প।

তার প্রায় সবটাই দাদির কাছে শোনা।

দাদির আছে গল্পের ঝুলি।

দাদি যে এতো গল্প কোথায় পেলো!

দাদিকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, ও দাদি, তুমি এতো গল্প কোথায় পেলে?

কোথায় আবার পাবো।

এই বড়ো হতে হতে অনেক গল্প জমা হয়ে গেছে।

সুখের গল্প।

দুখের গল্প।

দাদি আমার সুখের গল্পই করে।

আমার মনে মাঝে মাঝে প্রশ্ন উঁকি মারে। আচ্ছা, দাদির জীবনে কোনো দুখের গল্প কি নাই?

আছে তো।

দাদি দুখের গল্পগুলোও এমন করে বলে, সেগুলো যেন রূপকথা।

তার বলার ঢঙ এমন।

ওগুলো তখন আর দুখের থাকে না।

আমি দাদিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আচ্ছা দাদি, তোমার দাদিও কি তোমার সঙ্গে এ রকম গল্প করতেন?

দাদি বলে, তিনি তো অনেক আগেই ওপারে যাত্রা করে দিলেন।

কথাটা এমনভাবে বললো যেন আমার দাদির দাদি নদীর এপার থেকে ওপারে গেলো।

দাদিকে নিয়ে আমার গল্পের ঝুলিও শেষ হবে না।

দাদির কাছে শোনা রেঙ্গুনের গল্পই আমার মাথায় অনেক দিন ধরে ঘোরে।

রেঙ্গুনে লাল লাল নীল বাতি আছে।

রেঙ্গুনে বড় বড় দালানকোঠা আছে।

রেঙ্গুনে হাতি আছে।

রেঙ্গুনে ঘোড়া আছে।

রেঙ্গুনে চিড়িয়াখানা আছে।

রেঙ্গুনে রেলগাড়ি আছে।

রেঙ্গুনে মোটরগাড়ি আছে।

রেঙ্গুনে কারেন্ট আছে।

রেঙ্গুনে পুতুল নাচ আছে।

রেঙ্গুনে সার্কাস আছে।

রেঙ্গুনে রসগোল্লা আছে।

রেঙ্গুনে আইসক্রিম আর লাড্ডু আছে।

রেঙ্গুনে উড়োজাহাজ উড়ে।

রেঙ্গুনে উড়োজাহাজ নামে।

রেঙ্গুনে টমটম আছে।

রেঙ্গুনে লাটিম আর বেলুন আছে।

রেঙ্গুনে টিভি আছে।

রেঙ্গুনে বেতার আছে।

রেঙ্গুনে গান হয়।

রেঙ্গুনে নাচ হয়।

রেঙ্গুনে নানারকম খেলনা পাওয়া যায়।

রেঙ্গুনে নায়ক আছে।

রেঙ্গুনে নায়িকা আছে।

রেঙ্গুনে সিনেমা হল আছে।

রেঙ্গুনে আরও অনেক কিছু আছে।

ও দাদি, আমি রেঙ্গুনে যাবো।

এ কথা শুনে দাদি আমার আঁচলে মুখ ঢেকে বলে-

আমি মরলে রেঙ্গুন দেখো আমার দাদা ভাই।

এ কী বললে দাদি!

আমি দাদির মুখের আড়াল সরিয়ে দেখি দাদির চোখে জল!

ও দাদি, তুমি মরবে কেন?

দাদি তুমি মন খারাপ করো না,

আমি যদি রেঙ্গুন যাই তোমাকে নিয়েই যাবো।

তুমি শুধু রেঙ্গুনের ঠিকানাটা একবার বলো।

আমি ইয়া বড়ো পাখনাওয়ালা দুটি পাখি বানাবো।

অই পাখির ডানায় ভর দিয়ে আমরা রেঙ্গুন যাবো।

সারাদিন ঘুরে ঘুরে রেঙ্গুন দেখে দিনে দিনে আবার মংডুগ্রামে ফিরে আসবো।

একবার একটু হাসো তো দাদি। হ