ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


স্মার্টফোনের দৈত্য

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০১৯      

গল্প লিখেছেন তাহসিনা এনাম তৃষা ছবি এঁকেছেন রজত

দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে মিমি। এইটুকুন মিমির খুব ভাব স্মার্টফোনের সঙ্গে। মোবাইলে সে মজার গেম খেলে। আর ইউটিউবে দেখে কার্টুন। স্কুল থেকে ফিরেই মায়ের মোবাইল নিয়ে ডুব দেয় তাতে। মিমির প্রিয় গেম- 'বাবল শুটার'। শুটিংগান দিয়ে রঙিন বাবল শুট করে কী যে আনন্দ পায়! তারপর আছে 'টকিং টম'। কী সুন্দর করে তার বলা কথাগুলো নকল করে! মোবাইল স্ট্ক্রিনে আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে টকিং টমকে পেটানো যায়। আরও কতো গেম খেলে মোবাইলে! খেতে বসেও ফোনটা হাতে চাই মিমির। তখন সে ইউটিউবে কার্টুন দেখে। কখনও দেখে 'ইপিন উপিন'। কখনও আবার জুলবেবির এপিসোড। কার্টুন না দেখে সে কিছুই খায় না। হাত-পা ছুড়ে কান্না করে। মামণিও বাধ্য হয়ে মোবাইল হাতে তুলে দেয় তার।

এক বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ছোট মামা বেড়াতে এলেন মিমিদের বাসায়। তাও অনেক দিন পর। মিমি তো ছোটমামাকে দেখে ভীষণ খুশি। মামার হাতে নতুন মোবাইল দেখে বলে, 'মামা, তোমার মোবাইলটা দাও না আমাকে।'

মামা জিজ্ঞেস করেন, 'ফোন দিয়ে কি করবে তুমি?'

মিমি বলে, 'খেলব মামা।'

ভাগ্নির কথা শুনে মামা কিছুটা অবাক। বলেন, 'তুমি কোথায় আমার সঙ্গে গল্প করবে, তা না; মোবাইলে গেম খেলতে চাচ্ছ!'

মামণি বলেন, 'মিমি তো সারাদিন মোবাইলেই পড়ে থাকে।'

এই কথা শুনে মামা খুব মন খারাপ করে বলেন, 'ছোটদের বেশি মোবাইলে খেলা উচিত না মা। এতে চোখ ব্যথা হয়, দেখতে অসুবিধা হয়...'

মামার কথায় কিছুটা মন খারাপ হলো মিমির। সে মন খারাপ নিয়েই ঘুমিয়ে পড়লো।

হঠাৎ সে দেখে, ইয়াব্বড় একটা স্মার্টফোন দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। সেই স্মার্টফোনের আছে দুটো করে হাত-পা। লাল চোখগুলো কেমন জ্বলজ্বল করছে। লম্বা দাঁত। মিমি ভয়ে জিজ্ঞেস করে, 'কে তুমি?'

উত্তরে মোবাইলটা বলে, 'স্মার্টফোনের দৈত্য। আমি এসেছি তোমাকে শাস্তি দিতে।' মিমি ভয় পেয়ে যায়। তবু গলার স্বর নামিয়ে বলে, 'আমি কী অমন করেছি যে আমায় শাস্তি দিতে হবে?'

দৈত্য বলে, 'দিনমান আমার স্ট্ক্রিনে খোঁচা দাও তোমার আঙুল দিয়ে। আমার ব্যথা লাগে না? ইউটিউব চালিয়ে আমার কান ঝালাপালা করে দাও। আমার মাথা ব্যথা করে না? এখন আমি তোমার চোখ নষ্ট করে দেবো। তুমি আর দেখতে পাবে না- এটাই তোমার যোগ্য শাস্তি।'

মিমি ভয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো। তারপর অনুনয় করে বলে, 'আমার চোখ নষ্ট হলে আমি দেখতে পাবো না দৈত্য চাচ্চু। আমার চোখ নষ্ট করো না, প্লিজ...।'

মিমির মনে হচ্ছিলো তাকে কেউ জোরে জোরে ধাক্কাচ্ছে। চোখ খুলে দেখে মামণি বলছে, 'মিমি জলদি ওঠো, স্কুলের সময় চলে যাচ্ছে।'

এই স্বপ্নে মিমি খুব ভয় পেয়েছিলো। আর চোখও একটু ব্যথা করেছিলো। সেদিন থেকে মিমি আর কখনও মোবাইলে গেমস খেলেনি! হ