ঘাস ফড়িং

ঘাস ফড়িং


ইড়িং বিড়িং তিড়িং বই

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০১৯      

মোহসেনা জয়া

ল্যাজ দিয়ে যায় চেনা

ইড়িং বিড়িং তিড়িং নাচে পিড়িং পিড়িং। খরগোশের বাচ্চা নেচে বেড়ায় ঘাসের পাতায় পাতায়। দিন নেই, দুপুর নেই, সকাল নেই। খরগোশের বাচ্চা শুধু নাচে আর নাচে। জঙ্গলের ভেতরে, কখনও-বা বাসার পাশে, কখনও-বা মাঠের ধারে। নাচের আর বিরাম নেই। কখন যে তার সকাল হয়, আর কখন সুয্যি গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে, সেদিকে তার খেয়াল নেই। সে শুধু নাচে আর নাচে। পাড়াপড়শিরা বলে, বাহ্‌, ছেলে তো নয়, যেন হাসির র্হ‌র...। মুখের হাসিটি কখনও শুকোয় না, মনের আনন্দটি কখনও মরে না। সব সময় যেন আগপায়ে দাঁড়িয়েই আছে। এ নিয়ে খরগোশের আর খরগোশ-গিন্নির আনন্দ ধরে না। পাঁচমুখে তাদের ছেলের গল্প যেন ফুরোতে চায় না...।

এই খরগোশ ছানা বনের ভেতর কেমন কাণ্ড ঘটায় তা পড়তে পারো এই বইতে। আর তের ল্যাজ কাহিনিও জানতে পারবে। বলবে, বইয়ের নাম শুনে তো মনে হচ্ছে, ল্যজ নিয়েই লেখক শেষ করে দিয়েছে বইটি। আসলে তা না! বইটি পড়তে পড়তে হারিয়ে যাবে অচেনা কিংবা চেনা কোনো বনের ভেতর। হয়তো নিজেই তখন হয়ে যাবে ছোট্টমোট্ট খরগোশের বাচ্চা!

বনে-বাদাড়ে

একে একে দিন যায়, মাস যায়। অমনি একটি ঋতু ফুরিয়ে গিয়ে আর একটি ঋতুর উদয় হয়। গ্রীষ্ফ্ম গিয়ে আসে বর্ষা। তারপর শরৎ ও হেমন্ত পেরিয়ে নামে শীত। আবার শীত গিয়ে উদয় হয় বসন্তের। এক এক ঋতুতে আবহাওয়া হয় এক এক রকম। একটি ঋতু বদলের পর শুরু হয় আরেকটি ঋতু বদলের পালা। সে বদলের চাকায় চাকায় ধীরে ধীরে বছর গড়িয়ে চলে। কিন্তু সেই বদলের হাওয়া কখন কেমন করে যে গিয়ে লাগে বনে-বাদাড়ে, সে খবর কতটুকু-বা রাখি আমরা! চোখের সামনে আমরা শুধু দেখি গাছভরা পাতা। একদিন ঝরঝর করে ঝরে পড়ে অমন সবুজ জমজমাট গাছটা হঠাৎ নেড়ামুড়ো হয়ে যায়। আবার কখন যেন কোনো দক্ষিণ সাগরের হাওয়া এসে সোনার কাঠি বুলিয়ে দিয়ে যায়। সেই নেড়ামুড়ো গাছ আবার সবুজ পাতায় ভরে ওঠে। ডালে ডালে থোকা থোকা ফুল ফোটে। একদিন সেই ফুলের কোলে কোলে ফল ধরে। ফল থেকে জন্ম হয় গাছের।

গাছ থেকে? আর বনের শিশুগাছরা বেড়ে ওঠে কেমন করে? তারপর আর কী ঘটে বনে? সে কথা তোমাদের শোনাতে পারছি না। লেখকও কি শোনাতে পেরেছেন বইয়ে? বনবেড়াল, ভামবেড়ালরা জোট পাকায়। জোট পাকিয়ে কেমন করে তারা বন-বাদাড়ে ঘুরে, কেমন করে বন-বাদাড়ের জীবন বেড়ে ওঠে; এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবে বনে-বাদাড়ে বইটিতে।

এই বই দুটি লিখেছেন লেখক হাবীবুর রহমান। নতুন করে তোমাদের জন্য প্রকাশ করেছে বাংলা প্রকাশ। প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী ধ্রুব এষ। অলংকরণ করেছেন শেখ সাদী। বই দুটির দাম রাখা হয়েছে ২০০ টাকা করে। হ