দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


শান্ত-প্রশান্ত মন...

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২০      

সুমনা বিশ্বাস

ঘরেই থাকি। নিরাপদে থাকি। এই নিরাপদ থাকতে গিয়ে আমাদের নিতে হচ্ছে ঘরের নানা কাজের চাপ। ঘরের মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়ার চাপ। এসব চাপের মধ্যে মন হয়ে উঠে উদ্বিগ্ন, অস্থির। এই অস্থিরতায় ব্যক্তিগত অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন অনেকে। তার জের ধরে পারিবারিক সমস্যা। তবে সমস্যা তো জীবনেরই অংশ। আর এ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশলগুলোও আপনাকেই জানতে হবে। তাই আপনাদের জন্য আজ রইল দ্রুত নিজেকে শান্ত করার কিছু পরামর্শ।

জায়গা বদল

যখনি আপনি কোনো ঝামেলায় পড়ছেন সেটার কারণ খুঁজুন। কোন অবস্থা হলে আপনি উত্তেজিত বা উদ্বিগ্ন হচ্ছেন এবং রাগারাগি করছেন, সেটি বুঝতে চেষ্টা করুন। পরের বার সে ধরনের অবস্থা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। যখন বুঝবেন এ ধরনের অবস্থা তৈরি হবে তখন জায়গাটি থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে একটু হেঁটে আসুন।এই জায়গা বদল অনেক ঝামেলা কমিয়ে দিবে।

গভীরভাবে শ্বাস নিন

বেঁরচ থাকার জন্য আমরা শ্বাস নেই। সেই শ্বাসটা যদি গভীরভাবে নেওয়া হয় শরীর পাবে কিছুক্ষণের স্বস্তি। প্রশান্তি। গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় মস্তিস্ক ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেন ভালোভাবে পৌঁছায়। আর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন যে জরুরি এই বিষয়টি আমাদের সবার জানা। এ ছাড়া গভীরভাবে শ্বাস নিলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। মনে মনে এক থেকে পাঁচ গুনুন। গণনা করার সময়টাতে ধীরে ধীরে দম নিন। এবার কিছুক্ষণ দম ধরে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে দম ছাড়ুন। এরপর দুবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন। আবার গভীরভাবে দম নেওয়ার পদ্ধতিটি অনুসরণ করুন।

চোখ বন্ধ রাখতে পারেন

যখন আমরা অস্থির হয়ে যাই, উত্তেজিত হয়ে পড়ি বুঝতে পারি না কী করব।এই সময়টাতে নিজেকে ধরে রাখার জন্য চোখ বন্ধ করে নিতে পারেন। এতে ভারসাম্য ধরে রাখা সহজ হবে। তবে এ পদ্ধতি ব্যস্ত পথ দিয়ে হাঁটার সময় বা গাড়ি চালানোর সময় কাজে লাগাবেন না। এতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

গানে প্রশান্তি

গান শুনলে শান্ত হয় মন। সুশীতল বাতাস শরীরে। অন্যরকম প্রশান্তি উঁকিঝুঁকি দেয় শরীরে। সুরের শক্তি মনের ক্ষতগুলোকে ধীরে ধীরে সারায়। তাই খুব বিরক্ত বা উদ্বিগ্ন লাগলে মন শান্ত হবে এমন সংগীত শুনুন। আর এখন তো ইউটিউবে মনকে শিথিল করার জন্য অনেক সংগীত রয়েছে। এর মধ্যে আপনার পছন্দেরটি বেছে নিতে পারেন।

মাঝে মাঝে মুক্ত হাওয়া

ঘরবন্দি থাকতে কত ভালো লাগে। সন্তান এবং সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরে আসুন ছাদ থেকে। ইচ্ছে করলে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকেও হেঁটে আসতে পারেন। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে কারও সঙ্গে যেন কোনোরকম সংস্রব না হয়। খুব বেশি অস্থির থাকার দিনগুলোতে চেষ্টা করতে পারেন একটু বাইরে থেকে বেরিয়ে আসতে। সেটা হতে পারে কোনো পার্কে বা ঝিলে। মানুন আর নাই মানুন, প্রকৃতির কিন্তু এক বিশাল শক্তি রয়েছে মনকে শান্ত করে দেওয়ার।