দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


জয় হোক মানবিকতার...

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২০      

জহিরুল কাইউম ফিরোজ

পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে একটু একটু করে। মুখর হচ্ছে মানুষের পদচারণায়। করপোরেট কেবিন হয়ে চায়ের আড্ডায় যেটুকু সময় মিলছে তাতে গল্প জমছে সাহসিকতার, মানবিকতার। চর্চা হচ্ছে জীবনবাজি রেখে লড়ে যাওয়া ডাক্তার, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবীদের। কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার তেমন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশন'। করোনার শুরু থেকে যারা বুক চিতিয়ে লড়ছে মহামারির বিরুদ্ধে। করোনাভাইরাস বাংলাদেশে আসার পরপরই ওরা সর্বোচ্চ তৎপরতা নিয়ে এগিয়ে আসে। উপজেলার প্রধান প্রধান মোট ১৪টি পয়েন্টে স্থাপন করেছে হ্যান্ডওয়াশিং বেসিন। বাড়িঘর, দোকানপাট, এমনকি যানবাহনেও প্রতিদিন ছিটায় জীবাণুনাশক স্প্রে। মার্চের শেষ সপ্তাহে বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সুরক্ষা রেখা স্থাপন করা হয়। সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম ছিল সেই উদ্যোগ। সরকার কর্তৃক কৃষকের ধান কেটে দেওয়ার নির্দেশনা আসার আগেই সংগঠন পরিকল্পনা নিয়ে নেমে পড়ে কাজে। কৃষকের পাকা ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। চালু করেছে টেলিমেডিসিন সেবা। যাতে ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারে সাধারণ মানুষ। ১০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে করোনা কিংবা এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা মানুষের দাফন, শেষকৃত্য সম্পন্ন করার লক্ষ্যে। লকডাউন হওয়া বাড়িতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি সেবা পৌঁছে দিচ্ছে আরেক দল। তিন দফায় প্রায় হাজারখানেক সুবিধাবঞ্চিত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষকে দিয়েছে খাদ্যসামগ্রী উপহার। 'পবিত্র রমজানে আমার আহার দুটি প্রান্তে' শীর্ষক ট্যাগলাইনে রমজান মাসে প্রতিদিন সংগঠনের অন্তত একজন সদস্য ইফতার করান দু'জন অসহায় মানুষকে। রোজা শেষে প্রজেক্ট থেকে ইফতার পাওয়া মানুষের সংখ্যা এক হাজারে দাঁড়ায়। সংগঠনের পথচলা শুরু হয় রক্তদান কার্ষক্রমের মাধ্যমে। করোনা পরিস্থিতিতেও গত তিন মাসে ৫২৫ ব্যাগ রক্তদান করেন সদস্যরা।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি শুরুর পর থেকে রক্তদানের এই সংখ্যাটা ৪,৮০০ ছাড়াল। উপজেলার মানুষের কাছে আস্থার অপর নাম এই সংগঠনের তিনজন সদস্য কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন সরাসরি জনসাধারণের সংস্পর্শে এসে। তাদের একজন সজীব ভৌমিক জানান, করোনা প্রাণ কেড়ে নিলেও দুঃখ নেই। মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি। কষ্টের চেয়ে আনন্দ বেশি। সুস্থ হয়ে আবার নিজেকে সঁপে দিতে চাই মানবতার তরে। নিবেদিতপ্রাণ এসব স্বেচ্ছাসেবকের সামনে থেকে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন পৌর মেয়র অধ্যাপক আবুল খায়ের। মাথার উপর ঢাল হয়ে আছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে একদল সাহসী যুবা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুর বিরুদ্ধে। তবে এবারের শত্রু অদৃশ্য। তবুও লড়ে যাচ্ছে ওরা। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গর্বিত হওয়ার এমন সুযোগ রোজ রোজ আসে না। আর তাতেই নির্ভার হয়ে মানবসেবায় নিজেদের সর্বস্ব ঢেলে দিচ্ছে ভিক্টোরি অব হিউম্যানিটি অর্গানাইজেশন। ঘোর ক্রান্তিকালে প্রমাণ করছে মানুষ মানুষের জন্য প্রবাদের সার্থকতা। া