দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


বর্ষার ফল ডেউয়া

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২০      

মোহাম্মদ মহসীন

গ্রাম-বাংলায় দেশীয় ফলের মধ্যে অন্যতম একটি ফল ডেউয়া। এই ফলটি অপ্রচলিত টক-মিষ্টি ফল। গাঁও-গ্রামে ডেউয়া ফল নামে চিনলেও সংস্কৃত ভাষায় এর নাম লকুচ ও হিন্দিতে ডেহুয়া নামে প্রচলিত।

ডেউয়ার বৈজ্ঞানিক নাম : আর্তকার্পাস লাকুচা (Artocarpus lacucha). ইংরেজি নাম : মনকে জ্যাকফ্রুট (monkey jackfrui), এটি চিরসবুজ বৃক্ষ। এই ফলটি ভারত ও বাংলাদেশের সর্বত্রই পাওয়া যায় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রচুর জন্মে। এর ফল খুবই সুস্বাদু। গ্রামাঞ্চলে এখনও প্রচুর দেখা মিলে। ফলটি অপ্রচলিত হলেও গাঁও-গ্রামে মানুষের কাছে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ, পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফল হিসেবে পরিচিত। টক-মিষ্টি স্বাদের ফলটি কারও কাছে অপ্রিয় হলেও আমার কাছে অনেক প্রিয়।

বর্ষাকালে গ্রাম-বাংলায় পাতার আড়ালে হলুদ আবরণে আচ্ছাদিত ফলটি পাওয়া যায়। জলবায়ু পরিবর্তন ও নির্বিচারে ঘর-বাড়ি নির্মাণে পরিত্যক্ত ও অনাদরে বেড়ে ওঠে। তবে গাছটি কারণে-অকারণে কেটে ফেলা হচ্ছে। ডেউয়া বহু শাখায়িত একটি বড় বৃক্ষ। এ গাছের উচ্চতায় ১২-১৫ মিটার হয়ে থাকে। বাকল ধূসর রঙের ও খসখসে। গাছের যে কোনো জায়গায় কাটলে সাদা দুধের মতো কষ বা আঠা বের হয়। পাতা পুরু, চকচকে সবুজ ও বড়।

এপ্রিল মাসে স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটে। মে-জুন মাসে ফল পাকে। স্ত্রী ফুল থেকে এবড়োখেবড়ো খাঁজকাটা গড়নের ফল হয়। ফলের খোসা খসখসে। কাঁচা ফলে রঙ সবুজ, পাকলে রঙ হয় হলুদ। ফলের খোসা পাতলা। ফল ভাঙলে ভেতরে ছোট ছোট হলুদ রঙের কোয়া দেখা যায়। এসব কোয়ার শাস নরম, হলুদ ও টক-মিষ্টি স্বাদে-গুণে ভরপুর।

প্রতিটি কোয়ার ভেতরে হালকা বাদামি রঙের বা সাদাটে একটি বীজ থাকে। এই বীজ থেকেই চারা গজায়। ডেউয়া একটি ভেষজ উদ্ভিদ। এই গাছের ছাল গুঁড়া করে যে কোনো ক্ষতে লাগালে তা অচিরেই শুকিয়ে যায়। এ ফলের আরও গুণ কফবর্ধক, কামোদ্দীপক ও ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে সমাদৃত। বৃক্ষ তোর নাম কি? ফলে পরিচয়!