দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


সব ধরনের কভিডে ডেক্সামিথাসন নয়

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২০      

ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার

ডেক্সামিথাসন বহুল ব্যবহূত এক ধরনের স্টেরয়েড ওষুধ। জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ডেক্সামিথাসন গুরুতর কভিড রোগীদের জীবনরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে গত ১৬ জুন আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফলে দাবি করা হয়েছে। তবে সতর্কবার্তা হলো এটি শুধু ভেন্টিলেটর বা অক্সিজেন থেরাপি পাওয়া গুরুতর রোগীর জন্য প্রযোজ্য। অন্যরা এটি ব্যবহার করলে লাভের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে। দেখা গেছে ভেন্টিলেটরে অবস্থানকারী রোগীর এ ওষুধ গ্রহণে এক-তৃতীয়াংশ জটিলতা কমে আসে। আর অক্সিজেননির্ভর রোগীর সমস্যা এক-পঞ্চমাংশ হ্রাস পায়। সহজলভ্য এবং সস্তা বলে স্টেরয়েড জাতীয় এই ওষুধ ব্যবহারে সকলের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন।

বাংলাদেশে কভিড চিকিৎসায় স্টেরয়েড জাতীয় যে ওষুধটি বেশি ব্যবহূত হচ্ছে সেটা হলো মিথাইল প্রেডনিসোলন বা প্রেডনিসন। আলোচ্য ওষুধ ডেক্সামিথাসনের কাছাকাছি আরেকটি স্টেরয়েড, খালাতো ভাই বলা যেতে পারে। মিথাইল প্রেডনিসোলন শ্বাসতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বিধায় ফুসফুসের প্রদাহে এটি বহুল ব্যবহূত।

তবে বিভিন্ন স্টেরয়েডের মধ্যে ডেক্সামিথাসন তুলনামূলক সস্তা, এ কারণে বিভিন্ন রোগে ওষুধটি চিকিৎসকরা ব্যবহার করে থাকেন। এটি এক সময়ে নিউরোলজিস্টদের প্রিয় ওষুধ ছিল। মেনিনজাইটিস রোগের ক্ষতিকর অবস্থা প্রতিরোধে শুরুতেই শর্টকোর্সের ডেক্সামিথাসন ব্যবহার করা হয়। এছাড়া চোখের মলম ও ড্রপ, কানের ড্রপ, ত্বকের ত্রিীমেও ডেক্সামিথসন সংযুক্ত করা থাকে। যেখানে অ্যালার্জি বা ইনফেকশনের আশঙ্কা থাকে সেখানেই ডেক্সামিথাসন প্রয়োগ করা হয়।

স্টেরয়েড ওষুধ শরীরের ইমিউন রেসপন্স দুর্বল করে দেয়। অনেকেই অবাক হতে পারেন, এ ওষুধ তবে কেন কভিডে ব্যবহূত হচ্ছে? এর কারণ হলো কভিডে প্রাণহানির মূল কারণ ভাইরাসের প্রদাহ নয়, বরং ভাইরাস ঠেকাতে গিয়ে শরীর যখন অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখায় তখন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিজেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।এ অবস্থাটিকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় সাইটোকাইন স্ট্রর্ম বা ঝড় বলা হয়ে থাকে। স্টেরয়েড এবং এই জাতীয় ওষুধের সাহায্যে এই ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। সমস্যা হলো যদি ভুল সময়ে বা অতিরিক্ত মাত্রায় স্টেরয়েড দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে ভাইরাস বা অন্য ইনফেকশনের মাত্রা আবার মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। অর্থাৎ হিতে বিপরীত হবে।

স্টেরয়েডের বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। বিশেষত ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার রোগী এবং ইমিউনিটি যাদের কম এ ধরনের রোগীর জন্য তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ ব্যতিরেকে ওষুধটি ব্যবহার করা হবে বোকামির কাজ। া

[সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

শিশু বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল]