দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


করোনায় সবসময় যা করবেন

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২০      

ডা. নাফিসা আবেদীন

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা : সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুতে হবে বারবার (বিশেষ করে হাঁচিকাশির পর এবং পাবলিক পেল্গস থেকে ঘরে ফেরার পর)। সাধারণ সাবানই সবচেয়ে দারুণ কার্যকর। সাবানের অণুগুলো ভাইরাসের শরীরের চর্বির দেয়াল ভেঙে ফেলে ভাইরাসকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। সাবান না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে অ্যালকোহলের পরিমাণ ৬০% এর বেশি। হাত পানিতে ভিজিয়ে এরপর সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধুতে হবে (দুইবার হ্যাপি বার্থডে টু ইউ গান গাইলে প্রায় ২০ সেকেন্ডের একটু বেশি হয়)। নখের নিচে, আঙুলের ভাঁজে, হাতের উল্টো পৃষ্ঠে ভালো করে ধুতে হবে। হাঁচি-কাশি এলে হাতের তালু দিয়ে না ঢেকে কনুই দিয়ে ঢাকতে হবে। অথবা হাঁচি-কাশি টিস্যু পেপার দিয়ে ঢাকতে হবে, এরপর সঙ্গে সঙ্গে টিস্যু পেপারটা ময়লা ফেলার জায়গায় ফেলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। যেখানে সেখানে কফ, থুতু ফেলবেন না। নাকে-মুখে-চোখে হাত দেওয়া থেকে থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন : সামাজিক দূরত্বায়ন নিয়ে বিস্তর আলাপ্‌ হচ্ছে। আমরা আমাদের জীবনের স্বার্থে এ ধরনের কষ্টকর জীবনযাত্রা মেনে নিয়েছি। ৩ ফুটের কথা বলা হলেও হাঁচি- কাশি হচ্ছে এমন কারও ৬ ফুটের ভেতর আসবেন না। হ্যান্ডশেক পরিত্যাজ্য। অপ্রয়োজনে বা স্বল্প প্রয়োজনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। জনসমাবেশে যাওয়ার দরকার নেই। যদি আপনি নিজে হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত হন, নিজেকে বাসায় আটকে ফেলুন, কোথাও বের হবেন না। বাসা থেকেই অনলাইনে অর্ডার দিন। কোনো এলাকায় প্রতি লাখে ৬০ জন, কভিডজনিত রোগে আক্রান্ত হলে সেই জোনকে রেড জোন হিসেবে গণ্য করা হয়। ্রপ্রান্তিক বা মফস্বল এলাকায় প্রতি লাখে ১০ জন আক্রান্ত হলে সে এলাকাকে রেড জোন বলা হয়ে থাকে। রেড জোনের মানুষ বিশেষ কারণ এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোনো জোনে যাওয়া যাবে না। মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোটাই যে রোগের বিস্তৃতির মূল উপায় তাকে বড় আকারে প্রতিহত করতে গেলে এই দূরত্বায়নের বিকল্প নেই। সামাজিক দূরত্বায়ন যে কাজ করে সেটার প্রমাণ ইতিহাসে বহুবার পাওয়া গেছে। চীনের উহানে সব লকডাউন করে ফেলার পর নতুন আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আছে সামাজিক দূরত্বায়ন কার্যকর করার মাধ্যমে। ইতালি দেরিতে হলেও বুঝতে পেরে সারাদেশ এখন লকডাউন। কেউ ঘরে থেকে বেরোবে না খুব খুব জরুরি দরকার নাহলে। দূরত্বায়নের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো 'ফ্লাটেনিং দি কার্ভ'। একই সময়ে বহু মানুষ আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। সামাজিক দূরত্বায়ন কার্যকর করলে এটার ব্যবস্থাপনা কিছুটা সম্ভব হয়। া