দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


স্বাস্থ্য টিপস

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কচুরমুখি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২০      

কায়সুন নেসা লিসা

শুধু স্বাদে নয়, কচুরমুখি গুণেও অনন্য একটি সবজি। আমাদের দেশের কমবেশি সব অঞ্চলেই এই সব্জি পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেয়া যাক এটির উপকারিতা সম্পর্কে :

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সারাদিনের চাহিদার প্রায় ২৭ ভাগ ফাইবার এই সবজি দ্বারা পূরণ করা সম্ভব। এটি হজমশক্তি বাড়ায়। এছাড়া এটি অতিরিক্ত গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিপাকেও সহায়তা করে। এমনকি ডায়রিয়ার জন্যও বেশ উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই সবজির জুড়ি অতুলনীয়। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা শরীরের কার্যক্ষমতার জন্য দারুণ কার্যকরী। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। শরীরের রক্ত চলাচল সহজ করে। কচুরমুখিতে থাকা আয়রন ও কপার রক্তে লোহিত কণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। যার ফলে রক্তস্বল্পতা দূর করে। কচুরমুখিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে থাকে। এতে বিদ্যমান উচ্চমানের ভিটামিন এ, সি এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সেল বা কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচায়। এছাড়াও এতে থাকা ভিটামিন ই এবং এ ত্বক সুরক্ষায় দারুণভাবে কাজ করে। বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে আর কচুরমুখিতে এটি থাকায় এটি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। কচুরমুখিতে থাকা উপকারী ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে।

তবে অনেকেই কচু খেতে চান না কারণ তাদের ধারণা কচু খেলে গলা চুলকায়। আসলে কচুতে যে ক্যালসিয়াম থাকে, সেটি ক্যালসিয়াম অক্সালেট নামক একটি লবণের আকারে থাকে। যার রাসায়নিক সংকেত ঈধঈ২ঙ৪ এবং এটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কেলাস (ঈৎুংঃধষ) আকারে থাকে। কেলাসগুলো খুবই ক্ষুদ্র এবং বেশ ধারালো থাকে। এই লবণটি পানিতে খুব সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়। ফলে কচু যখন রান্না করা হয়, তখন ক্যালসিয়াম অক্সালেটের কিছু কেলাস অদ্রবীভূত (সম্ভবত) অবস্থায় থেকে যায়। ধারণা করা হয়, এই ক্রিস্টালগুলোর কারণেই আমাদের গলা চুলকায়।

অনেকেই বলে থাকে, লেবু খেলে বা কচুতে লেবু দিলে গলা চুলকায় কম। এর ব্যাখ্যা হলো, লেবুতে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড। ফলে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের কেলাস দ্রবীভূত হয় সহজেই। ক্যালসিয়াম অক্সালেটের সাথে সাইট্রিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম সাইট্রেটও উৎপন্ন হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণা পাওয়া যায়নি।

তবে অবশ্যই মনে রাখবেন সব খাবারেরই নিজস্ব গুণাগুণ যেমন আছে ঠিক তেমনি সব খাবার আবার সবাই চাইলেও খেতে পারেন না। তাই সঠিক নধষধহপবফ ফরবঃ এর কথা মাথায় রেখে কোন খাবার কখন খাবেন বা কতটুকু ংবৎারহম খেতে পারবেন সেটি অবশ্যই একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো। কারণ একই খাবার কারোর সুট করছে আবার কারও করবে না, এটাই স্বাভাবিক।

[ডায়েট ও পুষ্টি কনসালট্যান্ট, ফর্টিস হার্ট ইনস্টিটিউট, খুলনা]