দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


লকডাউনের ডায়েরি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২০      

জীবনে হঠাৎ যুক্ত হয়েছে নানারকম বিধিনিষেধ। পাল্টে গেছে জীবনের অভ্যাস। অন্য সবার মতো তারকারাও এই সময়ের নানা ঘটনা লিপিবদ্ধ করছেন। আজ রইল দুই তারকার লকডাউন ডায়েরি


জ্যোতিকা জ্যোতি

পত্রিকার পাতায় উঠে আসে শুধু কিছু নাম। কিন্তু ডিপ্রেশনে হারিয়ে যায় আরও অনেক নাম না জানা প্রাণ। ডিপ্রেশন বা কেউ ডিপ্রেশনে ভুগছে শুনলে অনেকেই পাত্তাই দেন না, আবার কেউ একটু খোঁচা দিয়ে বলেন, এটা বিলাসিতা। অথচ ডিপ্রেশন খুবই সিরিয়াস একটি রোগ, এবং তা চিকিৎসায় সেরে ওঠে। শুধু আমাদের অবহেলার জন্য দিনের পর দিন বয়ে বেড়ানো ডিপ্রেশন একদিন প্রাণটা নিয়ে বিদায় নেয়। আমাদের সমাজ শুধু শারীরিক অসুস্থতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, মানসিক অসুস্থতাকে নয়। আপনি যতই উপদেশ দেন- কোথাও থেকে ঘুরে আসো, আড্ডা দাও, বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো, সবাই পাশে দাঁড়াবে, সিনেমা দেখো, শপিংয়ে যাও, একদম মন খারাপ করে থাকবে না, তোমার মতো সাহসী লোক এসব পাত্তা দাও ধুর, অমুকের মতো সাহসী লোক কীভাবে আত্মহত্যা করলো, তমুক একবার তার পরিবারের কথা চিন্তা করল না, কাপুরুষরাই আত্মহত্যা করে, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়...। ব্লা, ব্লা, ব্লা...! জানেন আপনাদের এই উপদেশগুলো একজন ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মানুষের জন্য একদম ভ্যালুলেস! সেই মানুষটি এগুলো সবই জানে, বুঝে। কিন্ত এর কোনোটাই সে মেনে চলতে পারবে না কারণ সে অসুস্থ, তার প্রয়োজন প্রপার ডাক্তারি চিকিৎসা। জ্বর হলে আপনারা যতটা উদ্বিগ্ন হয়ে প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দেন তেমনি ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষের জন্যও ওষুধ আছে, চিকিৎসা আছে, ডাক্তার আছে। পারলে তাকে ডাক্তারের কাছে পাঠান, পাগলা গারদে না! আর মেয়েরা, আপনাদের পিরিয়ডের সময় কিন্তু ডিপ্রেশন তীব্র হয়, সতর্ক থাকুন।

যারা ডিপ্রেশনে আছেন পিল্গজ ডাক্তারের কাছে যান, চিকিৎসা নিন। আর খুব শক্ত মনোবল বা জেদ থাকলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে যোগব্যায়াম, ধ্যান শুরু করুন আজই, প্রগ্রেস না হলে সোজা ডাক্তার। শরীরের মতো আপনার মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। সবাই ভালো থাকুন।

ঢাকা
১৫ জুন ২০২০
কাজী নওশাবা আহমেদ

একটি মৃত্যু অনেক কিছু দেয় সমাজকে। কিন্তু আফসোস, খুবই সাময়িক তার স্থায়িত্ব! কিছুদিন আগে দেয়ালে দেয়ালে ছিল সুশান্তের নাম। কাল হয়তো থাকবে আরেকটি নাম, সুশান্ত এর ধুসর ভস্ম পড়ে রইবে শান্ত!

অশান্ত পৃথিবী, না পৃথিবীর কী দোষ...। তাকে তো আমরাই করেছি নিজেদের মতো ক্ষতবিক্ষত! ডাকের আশায় যারা বসে রইছেন... তাদের বলতে চাই। সবাই ডাক দিতে পারে না!! নিস্তব্ধতা বলে একটি অনুভূতি আছে। আছে মানুষের একটি অবস্থান। তা এখন অনেকেই জানেন না! এই নিস্তব্ধতায় মানুষ আপনাদের সকলের সাথে কথা বলে,, কিন্তু কোনো শব্দ হয় হয় না!

সুশান্তকে মরিয়া প্রমাণ করিতে হইল, উনি মিডিয়ার ভাষায় টেলেন্ট আর ব্রাইট ছিলেন! আহরে হবার আগে সবাই বাঁচারে বলে ডাক দেয়। তখন সেগুলো অনেক কিছুর নাম পায়! যাই হোক, মরিয়া মরা মনের মানুষগুলোর ভালোবাসা পাইবার সাধনা ত্যাগ করে ফেলুন! কাল আরেকজন সুশান্তকে বিতর্কের সেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আজ যেমন সুশান্তর অভিভাবক, আমি, আপনি একজন নিষ্পাপ দর্শক হিসেবে হতবাক! তখনও তাই হবে। ইতিহাস তাই বলে! একটি দুয়ার বন্ধ হলে, কাঠ, হাতুড়ি নিয়ে আরেকটি দুয়ার নিজ হাতে বানিয়ে ফেলুন! দুয়ার খুলে চলে যান আপন জগতে। এই মানবজীবন কি আর আসিবে,,, তাকে কি এত সহজে ছাড়া যায়!

ঢাকা
২১ জুন ২০২০