দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


অনুপ্রেরণার নাম মাইকেল

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২০     আপডেট: ২৫ জুন ২০২০      

শাফিন আহমেদ

অনুপ্রেরণার নাম মাইকেল

মাইকেল জ্যাকসন [জন্ম :২৯ আগস্ট, ১৯৫৮ - মৃত্যু :২৫ জুন ২০০৯]

'কিং অব পপ' মাইকেল জ্যাকসন। অল্প জীবনেই তিনি রেখে গেছেন অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্পকথা। ২০০৯ সালের আজকের দিনে লাখো ভক্তকে চোখের জলে ভাসিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এই পপ তারকা। এই কিংবদন্তি শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দুই সংগীত তারকা-

শাফিন আহমেদ

'জ্যাকসন ফাইভ' থেকে যাত্রা শুরু। মাইকেল সেই দলের প্রাণভোমরা। ধীরে ধীরে 'জ্যাকসন ফাইভ' জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল। সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মাইকেল আলোচনায় আসেন এই ব্যান্ডের কারণেই। বড় ভাইদের সাথে মঞ্চে তার সরব উপস্থিতি সবাইকে অভিভূত করে। ব্যান্ডের সদস্যদের মধ্যে বেশি নজর কেড়েছিলেন প্রধান ভোকালিস্ট মাইকেল জ্যাকসন। এরপরের ইতিহাস তো সবারই কমবেশি জানা। শেষ জীবন পর্যন্ত অসাধারণ প্রতিভা দেখিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন স্টেজ শো ও অ্যালবামেই প্রমাণ করেছেন তিনি কত উঁচুমাপের একজন মিউজিশান ছিলেন। এই সংগীত তারকা যা দিয়ে গেছেন তা কারো সঙ্গে তুলনা করা যায় না। মাইকেল জ্যাকসনকে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে 'ব্যাড' নামে একটি অ্যালবাম বেরিয়েছিল। ওই অ্যালবামটির ট্যুর উপলক্ষে যে কনসার্টটি হয়েছিল তা আমি দেখেছি। অবিশ্বাস্য কনসার্ট। তার ডান্স মুভমেন্টগুলো খুব নজরকাড়া ছিল। ডান্সের ক্ষেত্রে কিছু স্টাইল মাইকেল জ্যাকসন স্টাবলিস্ট করে গিয়েছেন। এত চমৎকার ডান্স করে পারফেক্টলি গান আদৌ কী সম্ভব! এটা মাথায় সবসময়ই ঘুরপাক খেতো। তার কনসার্ট দেখে আমার কাছে অবাক লেগেছে। তার কিছু গান মাইলস ব্যান্ড করেছে। আমি নিজেও তার বেশ কিছু গান করেছি। 'অব দ্য ওয়ার্ল্ড' অ্যালবামটি যখন বেরোলো তখন মাইলস গানটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাজায়। এরপর থেকেই ওই অ্যালবাম থেকে কয়েকটি গান বাজানো শুরু করি। মাইকেল জ্যাকসনের মতো এরকম প্রতিভাবান মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আসে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাকে।

হাসান

বিংশ শতাব্দীর সাড়া জাগানো উজ্জ্বল তারকা মাইকেল জ্যাকসন। নাচ ও গানের অসাধারণ শৈলী তাকে বিশ্বের শীর্ষ তারকায় পরিণত করে। আধুনিক পপ সংগীতের ইতিহাসে তিনি 'নতুন আধুনিক' অধ্যায়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী মাইকেল জ্যাকসন। তিনি সংগীতকে শুধু গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। এটিকে শিল্প বিকাশের মাধ্যম করেছেন তিনি। এককথায়, নতুনত্বের একজন অভিভাবক। তিনি তার সংগীতের মধ্য দিয়ে বিশ্বের নৃত্যশিল্প, ফ্যাশন শিল্পের বিকাশ করেছেন। পরিপূর্ণ একজন সৃষ্টিশীল মানুষ ছিলেন। পৃথিবীর সব শিল্পীর জন্য অনুকরণীয় একজন হয়ে আছেন তিনি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন তার গান প্রথম শুনি। তখন ইংরেজি খুব একটা বুঝতাম না। কিন্তু তার প্রতিটি গানের ছন্দ, কথা, চলন বলন হৃদয়কে আন্দোলিত করত। তার গান শোনার কারণেই আমার সংগীতে পদার্পণ হয়েছে।

মাইকেল জ্যাকসন সংগীত জীবনের শেষের দিকে বিষয়ভিত্তিক গান করেছিলেন। বর্ণবিরোধ, প্রাণী, প্রকৃতি নিয়ে তার গাওয়া গান বেশ সাড়া জাগায়। মানুষকে সচেতন করতে অসামান্য অবদান রেখেছেন কিং অব পপ মাইকেল। মাইকেল জ্যাকসন স্বপ্নের মানুষ ছিলেন। তাকে কোনোদিন সামনাসামনি দেখব এটা কল্পনাও করিনি। হয়তো চেষ্টা করলে তাকে দেখা যেত। আজীবন তিনি স্বপ্নের মানুষ হয়েই থাকবেন। মৃত্যুবার্ষিকীতে তার জন্য রইল অতল শ্রদ্ধা। া