দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


দেখুন অস্কারজয়ী ৪ ছবি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২০     আপডেট: ২৫ জুন ২০২০      

মুনলাইট

টারেল আলভিন ম্যাকক্রেনির অপ্রকাশিত নাটক 'ইন মুনলাইট ব্ল্যাক বয়েজ লুক ব্লু' অবলম্ব্বনে নির্মিত 'মুনলাইট' ছবিটি অস্কারের ৮৯তম আসরের সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়। কৃষ্ণাঙ্গ এক কিশোরের শৈশব থেকে যৌবনের ঘটনাবহুল জীবনের কাহিনি নিয়ে নির্মিত ছবিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেন বেরি জেনকিন্স। এতে অভিনয় করেন ট্রেভান্তে রোডস, আন্দ্রে হল্যান্ড, জেনেল মোনি, অ্যাস্টোন স্যান্ডারস, ঝারেল জেরমি, নাওমি হ্যারিস, মাহেরশালা আলি, আলেক্স হিবার্ট। ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেলুরিড চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী হয়। পরে এটু ফোরের পরিবেশনায় ছবিটি সে বছরের ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি দেওয়া হয়। ছবিটি মুক্তির পর সর্বোপরি সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। ছবিটি ৭৪তম গোল্ডেন গেল্গাব পুরস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে। মুনলাইট অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী প্রথম চলচ্চিত্র যেখানে সকল অভিনয়শিল্পী কৃষ্ণাঙ্গ। মাত্র ১৫ লাখ মার্কিন ডলারে নির্মিত এ ছবিটিকে হলিউডের সবচেয়ে স্বল্প বাজেটের ছবি বলা হয়। কারণ এতে ছিলো না কোনো আহামরি শুটিং লোকেশন, নামিদামি অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা জৌলুসময় দৃশ্য। সমকামী এক কৃষ্ণাঙ্গ বালকের জীবনসংগ্রামই 'মুনলাইট' চলচ্চিত্রের উপজীব্য। চলচ্চিত্রে তিনটি ধাপে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে বেড়ে ওঠা এক কৃষ্ণাঙ্গ সমকামীর জীবনকাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে ওই কৃষ্ণাঙ্গ সমকামীর পারিবারিক দারিদ্র্য, মায়ের মাদকাসক্তি, আর সমকামিতা নিয়ে তার দুর্দান্ত জীবনযুদ্ধ।

গ্রিন বুক

২০১৯ সালে অস্কার পাওয়া সেরা ছবি 'গ্রিন বুক'। পিটার ফ্যারেলি পরিচালিত এই ছবিটি নির্মিত হয়েছে বাস্তব কাহিনির ওপর ভিত্তি করে। এই সিনেমার গল্প একজন পিয়ানিস্টের একটি কনসার্ট ট্যুরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সিনেমাতে মূলত ডন শার্লি নামের সে পিয়ানো বাদক ও তার সহচর ভালেলঙ্গার সড়কপথের দীর্ঘকালীন ভ্রমণ ও ভ্রমণের সময় ঘটে যাওয়া নানা ছোট-বড় ঘটনার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এই সিনেমার সবথেকে চমকপ্রদ দিক হচ্ছে, সিনেমাটিতে হাস্যরস ও মজাদার ঘটনার মধ্য দিয়ে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ কথা। সমকামিতা থেকে শুরু করে বর্ণবাদ, পৃথকীকরণের মতো বড় বড় উপাদান নিয়ে রচিত সিনেমার গল্প সাধারণত কিছুটা হলেও গাম্ভীর্যভাব বজায় রাখবে, এটাই স্বাভাবিক কথা। কিন্তু এ সিনেমার ক্ষেত্রে এমন কিছুই হয়নি। সিনেমাটি দেখার পর দর্শকের মন একরাশ ভালো লাগায় পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। দুজন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষের স্বার্থহীন বন্ধুত্বের সম্পর্ক যেভাবে আপনার হৃদয়কে ছুঁয়ে যাবে, তেমনি সিনেমা শেষের বার্তাটি। দিনশেষে, সবাই আমরা মানব সন্তান। এটাই কি আমাদের একমাত্র পরিচয় নয়? গ্রিন বুক ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয় ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে, সেখানে ছবিটি পিপলস চয়েস পুরস্কার জয় করে। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন ভিগো মর্টনসন, মাহারশালা আলি, লিন্ডা কার্ডেলিনি, ডিমেটার মারিনভ, জর্জ ইকবাল টেবা, জনি ভেনিয়ার প্রমুখ।

প্যারাসাইট

২০২০ সালের সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার জয় করে দক্ষিণ কোরিয়ার ছবি 'প্যারাসাইট'। এই প্রথম ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র অস্কারে সেরা ছবির পুরস্কার জিতলো। এ ছবিতে চিত্রিত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল শহরের দুটি পরিবারের জীবন। একটি পরিবার দরিদ্র, তারা থাকে একটি ভবনের বেসমেন্টে। অন্যটি একটি ধনী পরিবার, যারা থাকেন বিলাসবহুল বাড়িতে। স্ত্রী এবং দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে কিম কি তায়েকের টানাপোড়েনের সংসার। কর্মক্ষম হলেও দুর্ভাগ্যবশত চারজনেই তারা বেকার। রাস্তার মাঝামাঝি উচ্চতার স্যাঁতসেঁতে অ্যাপার্টমেন্টে বসে যখন তারা কঠিন এই জীবনের হিসাবনিকাশ মেলানোর চেষ্টা করছে, তখন তাদের জন্য দেবদূত হয়ে আসে জি-উর বন্ধু। সে তাকে এক ধনী পরিবারে প্রাইভেট টিউটরের চাকরি জুটিয়ে দেয়। তাদের প্রাসাদোপম বাড়িতে গিয়ে নিজেকে সামলে নেয় জি-উ। সেই বাড়ির কর্ত্রী, সহজ সরল মিসেস পার্ককে হাত করে নিজের বোনেরও একটা চাকরি বাগিয়ে নেয় সে। চক্রান্ত করে বাড়ির ড্রাইভার আর হাউজকিপারের চাকরি ছুটিয়ে দিতে তাদের বিবেকে বাঁধে না। আস্তে আস্তে নিজের অজান্তেই মিস্টার পার্ক হয়ে ওঠেন পুরো কিম পরিবারের আয়ের মূল উৎস।

স্পটলাইট

১৯৭৫ সালের ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারির ওপর নির্মিত 'ক্লাসিক অল দি প্রেসিডেন্টস ম্যান'-এর পর 'স্পটলাইট'ই সন্দেহাতীতভাবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ চলচ্চিত্র। এর অসাধারণ চিত্রনাট্য দর্শককে নিয়ে যায় বস্টন গেল্গাবসের অনুসন্ধানী দলটির ভেতরে; যারা এই সময়ের অন্যতম কুখ্যাত একটি অপরাধের ঘটনা উন্মোচন করেছেন; তুলে এনেছেন ক্যাথলিক চার্চে কয়েক হাজার শিশু যৌন নিপীড়ন এবং সব জেনেও তা ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনা। কাজটি তারা এমন একটি সময়ে করেছেন, যখন গোটা বিশ্বেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। কেন গভীরতাধর্মী বা অনুসন্ধানী রিপোর্টিং সমাজের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ তারই একটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।