দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


নিজেকে গড়ার ছয় পরামর্শ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০      

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার

নিজেকে গড়ার ছয় পরামর্শ

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার (৩০ জুলাই ১৯৪৭)

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। অস্ট্রিয়ান-আমেরিকান অভিনেতা, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ৩৮তম গভর্নর। ২২ বছর বয়সে হন মিস্টার ইউনিভার্স। শরীর গঠন নিয়ে লিখেছেন একাধিক বই। 'দ্য টার্মিনেটর', 'কোনান দ্য বার্বারিয়ান' তার আলোচিত চলচ্চিত্র। চলুন, নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পরামর্শ জেনে নিই এই গুণী মানুষের কাছ থেকে। হাজির করলেন শাহনেওয়াজ টিটু

কী হতে চান সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার

আপনি তারুণ্যে ভর দিয়ে হাওয়ার বেগে ছুটছেন, ভবিষ্যতে কী করবেন, বড় হয়ে কী হবেন, বা কোন সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়বেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। কেউ আবার বাবা-মা, শিক্ষক, বন্ধুসহ অনেকের কাছ থেকেই দিকনির্দেশনা নেন। তাদের পরামর্শ নেওয়াটা মঙ্গলই। কিন্তু যেই বিষয়টা সবচেয়ে জরুরি, তা হচ্ছে নিজের গভীরে ডুব দিয়ে জিজ্ঞাসা করা যে, 'আপনি কার মতো হতে চান?' বাবা-মা, শিক্ষক এবং কাছের বন্ধুদের প্রত্যাশা থাকে আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। কিন্তু ভবিষ্যতে কী করবেন বা কী হবেন, এটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে আপনার পছন্দের কাজের ক্ষেত্রটি। সেই কাজটিই করুন, যা করে আপনি মনে শান্তি পাবেন। সেই সিদ্ধান্তটা মানুষের কাছে বোকামি মনে হলেও আপনার জন্য তা সঠিকই বটে!

আইন নয়, ভেঙে ফেলুন বাধা

আশপাশের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসুন। জীবনের একটি সুনির্দিষ্ট ধারা বা নিয়মকানুন আছে, তাকে বদলাতে হবে। আইন নয়, ভেঙে ফেলুন চারদিকের সব বাধা। নিজের মনের কথা কখনোই শুনতে পাবেন না যদি আপনি খুব নরম স্বভাবের মানুষ হয়ে থাকেন বা প্রচলিত জীবনধারার বাইরে না যেতে পারেন। যদি সবার কাছে পছন্দের ব্যক্তি হয়ে উঠতে চান এবং নিজের সত্তাকে বিকশিত করতে চান, তবে আপনাকে আশপাশের আর ১০ জনের চেয়ে একটু অন্যরকম চিন্তায় ডুব দিতে হবে। তবেই ধরতে পারবেন স্বপ্নটা।

নিজের ওপর গভীর আস্থা

সব ক্ষেত্রে সাফল্য নাও আসতে পারে। তাই বলে হাল ছেড়ে দেবেন না। কোনো কাজ করতে গিয়ে মনে হতে পারে কাজটি অনেক ভালো হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজটিতে আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এই ক্ষেত্রে ভাবুন এবং ভুলগুলো পরবর্তীতে না করার সিদ্ধান্ত নিন। সব সময় সফল হওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে এজন্য আপনি পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিতে ঘাবড়ে যেতে পারেন না। আপনাকে সবসময়ই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ আর কারও না থাকলেও নিজের ওপর গভীর আস্থা ও বিশ্বাস আছে আপনার।

এড়িয়ে চলুন কান কথা

যে কোনো কাজ শুরুর আগে শুনতে পারেন- এটা তুমি পারবে না, এটা আগে কখনও কেউ করেনি, এটা অনেক কঠিন, এটা করা সম্ভব না ইত্যাদি। সেসব কথা কানে নেবেন না। প্রয়োজনে তাদের এড়িয়ে চলুন। কারণ এরা আপনার লক্ষ্য এবং কক্ষ থেকে অনেক দূরে সরাতে চেষ্টা করবে। তাই সবসময় নিজের মনের কথা শুনুন।

যতটা পরিশ্রম করা যায় করুন

যে কোনো কাজে ব্যর্থতার পর অনেকেই ভাবেন, কাজটি মনে হয় অনেক কঠিন ছিল। আসলে কিন্তু তা নয়। মূল কারণটি হচ্ছে, এই কাজের জন্য সেই ব্যক্তির যতটা পরিশ্রম করার কথা ছিল তা তিনি করেননি। নির্ধারিত কাজ যথাসময়ে করা, সময়কে কাজে লাগানো, সেই সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। এজন্য আপনাকে অনবরত কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার হাত গুটিয়ে রেখে কখনোই মই বেয়ে ওপরে উঠতে পারবেন না। এই জন্য দুই হাত ব্যবহার করতেই হবে।

দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রাখুন

আপনি সফল হওয়ার পরও যে কথাটি মাথায় রাখবেন, তা হচ্ছে দায়বদ্ধতা। যেই সেক্টরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন না কেন, কিছু কিছু জায়গায় আপনার দায়বদ্ধতা থাকবে। আপনাকে সমাজ, শহর, দেশের উন্নয়নেও কাজ করতে হবে। তবেই আপনি সার্থকতা খুঁজে পাবেন নিজের ভেতর। আর আপনাকে দিয়েও সার্থক হবে সমাজ।