দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


সন্তানের জন্য গুণগত সময়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০      

সুমনা বিশ্বাস

স্কুল ছিল। কোচিং ছিল। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা ছিল। আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাওয়া ছিল। 'সব ছিল'র মধ্যে এখন আর সময় কাটে না। ঘরবন্দি জীবনে বাবা-মায়ের ওয়ার্ক প্রম হোম কিংবা ঘরের কাজে ব্যস্ততা থাকে। ছেলেমেয়েদের সময় যেন কাটে না। এ সময়টাকে কীভাবে সুন্দর করে কাটানো যায়- রইল তারই কিছু পরামর্শ

স্কুলের পড়াশোনা

অনেক স্কুল বন্ধের এ সময় অনলাইনে শিশু শিক্ষার্থীদের ক্লাস করায়। প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষকরা আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা শিশুদের ক্লাস নেন। এতে দিনের দু-তিন ঘণ্টা শিশু স্কুল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কোনো স্কুল এক দিন পরপর, কোনো স্কুল সপ্তাহে দুই বা একদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে। অনলাইনে হোমওয়ার্ক দেওয়া হয়, অনলাইনে জমা নেওয়া হয়। কোনো কোনো স্কুল প্রায় দুই সপ্তাহ বা এক মাসের হোমওয়ার্ক দিয়েছে। স্কুল না থাকলে শিশুরা রোজ রোজ হোমওয়ার্ক করতে চাইবে না, কোনো কোনো শিশু আবার দু-তিন দিনে সব বাসার কাজ করে ফেলে।

শিশুর মতামতকে প্রাধান্য

অধিকাংশ কর্মজীবী বাবা-মা শিশুকে বেশি সময় দিতে পারেন না। কর্মক্ষেত্র-সংসার-সামাজিকতায়। তেমনি হোমমেকার মায়েরা সারাদিন সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকেন। সেই সঙ্গে থাকে সামাজিকতা। শিশুও ব্যস্ত থাকে তার পড়াশোনা নিয়ে। ফলে দিন শেষে একে অপরের জন্য খুব একটা সময় থাকে না। ঘরে থাকার এ সময়টা তাই বাবা-মা এবং সন্তানদের একসঙ্গে গুণগত সময় কাটানোর সুন্দর সময়। গল্প করুন সন্তানের সঙ্গে। গুরুত্ব দিন তার মতামতকে। সন্তানের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব কমিয়ে আনুন। সন্তানের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটাবেন, সন্তানের মনোভাব তত বুঝবেন। সংসারের অন্য কাজেও আপনার সন্তানকে শামিল করতে পারেন। তাদের গল্প পড়ে শোনান, তেমনি আবার সন্তানকে বলুন আপনাকে পড়ে শোনাতে।

স্বাবলম্বী শিশু

শিশুকে তার নিজের কাজ নিজে করতে শেখান। বয়সভেদে তার বিছানা, টেবিল, বুকসেলফ, খেলনা, এমনকি তার পোশাকের আলমারি, ওয়ার্ডরোব বা ক্লজিট গোছাতে শেখান। শেখান টুকটাক রান্না ও বেকিং। খাবার টেবিল সাজানো শেখান। খাবার পর নিজের প্লেট, গ্লাস, কিচেনে রাখতে বলুন। মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করতে শেখান। ফার্নিচার মুছতে, গাছে পানি দেওয়ার পাশাপাশি ঘরে পোষা প্রাণী থাকলে সেটির দেখভাল করতে দিন।

দিতে হবে স্ট্ক্রিনটাইম

সন্তানকে নিয়ে টিভি দেখুন, শিশু-কিশোরদের উপযোগী অনেক ভালো ভালো সিনেমা রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষামূলক, অ্যাডভেঞ্চারাস, কমেডি, স্পাই থিলার, সায়েন্স ফিকশন, কমেডি, সোশ্যাল, এমনকি হরর সিনেমাও আছে। সন্তানকে যদি অনলাইনে খেলতে বা ইউটিউব দেখতে দিতেই হয়, তাহলে লক্ষ্য রাখুন সে কী খেলছে বা কী দেখছে। ইউটিউবে অনেক শিক্ষামূলক ভিডিও আছে, যা দেখে অনেক কিছু শিখতে পারে শিশুরা, সেগুলো সন্তানের সঙ্গে আপনিও দেখুন। আপনার সচেতনতা সন্তানকে ভুল পথে পরিচালিত হতে রক্ষা করবে।

সন্তানের সামনে ঝগড়া একদম নয়। যতদূর সম্ভব মাথা ঠান্ডা রাখুন। সন্তানের ওপর রাগ বা বিরক্তি প্রকাশ করবেন না। কঠিন কোনো শাস্তি দেবেন না। পরিবারের সবাই একসঙ্গে সুন্দর সময় কাটান। বিচ্ছিন্ন হয়ে সময় কাটাবেন না। সবাই মিলে পারিবারিক গুণগত সময় কাটালে শিশুর সময় সুন্দর কাটবে।