দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


কোনো এক সন্ধ্যা রানী

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০      

রাহাদ সুমন

বরিশালের বানারীপাড়ায় হার না মানা এক জীবন সংগ্রামী নারী সন্ধ্যা রানী। এক সময় এ নারীর পরিবারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী।অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন চলত তাদের। অদম্য ইচ্ছেশক্তি, নিরলস পরিশ্রম ও আত্মপ্রত্যয় সন্ধ্যা রানীর জীবনের অভাব নামক অমানিশার ঘোর অন্ধকার কেটে আলোময় করে দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে তিনি পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই এলাকায় শামুক কুড়িয়ে তা পুড়িয়ে হাতে খাবার চুন তৈরি করার কাজে নিয়োজিত হন। এভাবে চুন তৈরি করে তা বিক্রি করে দু'বেলা খেয়ে না খেয়ে কোনোভাবে চলত তাদের সংসার। ২০০০ সালে সন্ধ্যা রানী বানারীপাড়া পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডে বিডিএস পরিচালিত 'করবী' মহিলা সমিতিতে ভর্তি হয়ে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চুন প্রস্তুতের পরিধি বৃদ্ধি করেন। এরপর আর সন্ধ্যা রানীকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিডিএস থেকে ধাপে ধাপে ঋণের সিলিং বৃদ্ধি করতে থাকেন। সেই সঙ্গে কারখানায়ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করেন তিনি। সন্ধ্যা রানী বিডিএস থেকে ১৯ দফায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার আড়াই লাখ টাকা ঋণ চলমান রয়েছে। সন্ধ্যা রানীর তিন ছেলে ও স্বামী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রথমে শামুক সংগ্রহ করে স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরে তা পুড়িয়ে গুঁড়া করে বিশেষ পদ্ধতিতে চুন তৈরি করা হয়। চার হাজার পিস শামুকের মূল্য ৫০০ টাকা, যা পোড়ালে ৪০ কেজি গুঁড়া তৈরি হয়। ৪০ কেজি শামুক গুঁড়ার মূল্য ১২শ' টাকা। ৪০ কেজি গুঁড়া গুলিয়ে ২০০ কেজি খাবার উপযোগী চুন তৈরি করা যায়। যার বাজার মূল্য দুই হাজর ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে ৪০ কেজি শামুক গুঁড়া দিয়ে ২০০ কেজি খাবার চুন তৈরি হয়, যা থেকে ৭-৮শ' টাকা লাভ থাকে। সন্ধ্যা রানী জানান, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মণ খাবার উপযোগী চুন প্রস্তুত করা সম্ভব হয়, যা থেকে লাভ থাকে প্রায় ২৫শ' থেকে তিন হাজার টাকা। সন্ধ্যা রানীর আর্থিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষণীয়। একান্নবর্তী পরিবারটি আর্থিকভাবে বর্তমানে খুবই ভালো আছেন। তিনি ইতোমধ্যে জরাজীর্ণ বসতঘর ভেঙে একটি আধাপাকা ভবন নির্মাণ করেছেন। কারখানার যন্ত্রপাতি ক্রয় ও শামুক পরিবহনের জন্য বৃহৎ ট্রলার ক্রয় করেছেন। বিডিএসএ তার সঞ্চয় ও বিভিন্ন ব্যাংকেও রয়েছে ডিপিএস। সন্ধ্যা রানী এলাকায় একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। তার কারখানায় পরিবারের ৪-৫ জন ছাড়াও খণ্ডকালীন বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিয়োজিত থাকেন। এ প্রসঙ্গে বিডিএসের বানারীপাড়ার সিনিয়র শাখা ব্যবস্থাপক এটিএম মোস্তফা সরদার বলেন, কঠোর পরিশ্রম, সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতা ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দারিদ্র্যজয়ী সন্ধ্যা রানীকে আজকের এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এদিকে সন্ধ্যা রানীর এ সাফল্যের কথা জানতে পেরে সম্প্রতি বাংলাদেশ পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (বিকেএসএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জসিম উদ্দিন চুনের এ কারখানা সরেজমিন পরিদর্শন করে এর প্রসারতা লাভে সহায়তার আশ্বাস দেন।

বানারীপাড়া