দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


ক রো না

শিশুদের প্রশ্ন করুন ও শুনুন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২০      
এই মুহূর্তে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) নিয়ে যেসব বিষয় শুনছেন, তাতে বিচলিত হওয়াই স্বাভাবিক। আপনার সন্তানের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে বলে সহজেই ধরে নেওয়া যায়। তারা অনলাইন ও টিভিতে যা দেখছে বা অন্যদের কাছ থেকে এই ভাইরাস সম্পর্কে যা শুনছে, তা বোঝা শিশুদের জন্য কঠিন হতে পারে। তাই তাদের মধ্যে উদ্বেগ, চাপ ও দুঃখবোধ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আপনি সন্তানের সঙ্গে খোলাখুলি ও তাকে সহায়তার মনোভাব নিয়ে আলোচনা করলে তাদের বিষয়গুলো বুঝতে সহজ হয়। এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে, এমনকি অন্যদের জন্যও সহায়ক ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে।

ঁঁখোলা মনে প্রশ্ন করুন ও শুনুন

বিষয়টি নিয়ে সন্তানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করুন। বোঝার চেষ্টা করুন তারা বিষয়টি নিয়ে কতদূর জেনেছে এবং কী কী বিধিনিষেধ অনুসরণ করছে। খুব ছোট হলে এবং এখনও রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে না জেনে থাকলে তাদের কাছে বিষয়টি তোলার দরকার নেই। তার মধ্যে ভয় না ছড়িয়ে শুধু যথাযথ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার স্বাস্থ্যবিধি তাদের মনে করিয়ে দিন। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন এবং আপনার সন্তান যেন স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে, সে সুযোগ তৈরি করে দিন। ছবি আঁকা, গল্প বলা বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনাটা শুরু করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে কখনোই খাটো করে না দেখা বা এড়িয়ে না যাওয়া।

ঁঁশিশুবান্ধব পদ্ধতিতে সত্যটা তুলে ধরুন

বিশ্বজুড়ে যা চলছে সে বিষয়ে জানার অধিকার শিশুদেরও রয়েছে। তবে বড়দেরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের মানসিক যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখা। তাদের বয়স অনুযায়ী কথা বলুন, তারা কী প্রতিক্রিয়া দেখায় তা খেয়াল করুন, তাদের উদ্বেগের মাত্রা অনুধাবনের চেষ্টা করুন ও তাদের প্রতি সংবেদনশীল হোন। তাদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে না পারলে কোনো কিছু বানিয়ে বলবেন না।

ঁঁছেলেমেয়েরা নিজেদের ও তাদের বন্ধুদের কীভাবে রক্ষা করতে পারে, তা দেখিয়ে দিন

ছেলেমেয়েদের করোনাভাইরাস ও অন্যান্য রোগ থেকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়গুলোর একটি হচ্ছে নিয়মিত সঠিকভাবে হাত ধোয়া। এ জন্য তাদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে পারে, এমন আলোচনার অবতারণার দরকার নেই। শিশুর কাছে এ-বিষয়ক শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করতে গান বা নাচের মাধ্যমেও আলোচনা করা যেতে পারে। হাঁচি-কাশির সময় কীভাবে হাত ভাঁজ করে কনুই দিয়ে নাক-মুখ ঢাকতে হয়, তা আপনি ছেলেমেয়েদের দেখাতে পারেন। তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে, যাদের এসব উপসর্গ আছে, তাদের কাছে না যাওয়া এবং জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট বোধ করলে তারা যেন সেটা সঙ্গে সঙ্গে জানায়।

ঁঁনিজের যত্ন নেওয়া

এই পরিস্থিতির সঙ্গে নিজে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারলেই আপনি সন্তানদের সহায়তা করতে পারবেন। এসব খবরে আপনার কী প্রতিক্রিয়া ঘটে, তা থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করবে আপনার সন্তান। তাই এ পরিস্থিতিতে আপনি সুস্থ ও শান্ত আছেন দেখলে তারাও স্বস্তি অনুভব করবে। আপনি উদ্বিগ্ন ও হতাশ বোধ করলে নিজের জন্য সময় দিতে হবে এবং সমাজে আপনার আস্থাভাজন লোক, বন্ধু ও অন্যান্য পরিবারের কাছে গিয়ে কথা বলতে হবে। আপনি নিজে যাতে চাঙ্গা ও উজ্জীবিত থাকেন, সে জন্য কিছু সময় ব্যয় করতে হবে। া সূত্র :ইউনিসেফ