দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


মেধাবী মুখ

আমার স্বপ্ন শিক্ষকতা করা

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০      

সানজিদা ইমু

'পড়ালেখার শুরুটা মায়ের হাতে রান্নাঘরের হাজারো কর্মব্যস্ততার মাঝে একটি ছোট্ট কালো বোর্ডে সাদা চকের আঁকাআঁকি দিয়ে। তারপর বাবার কর্মসূত্রে একসময় গ্রাম ছেড়ে মফস্বল শহরে বেড়ে ওঠা। প্রতিদিন নিয়ম করে পড়তে বসার যে রীতি আমার মধ্যে বাবা সুনিপুণভাবে তৈরি করে দিয়েছিলেন, তা নিয়েই শিক্ষাজীবনের পুরোটা সময় চলে আসছি। এরপর পড়াশোনার প্রতি একটা বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি হয় নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ইংরেজির শিক্ষক ফারুকুল ইসলাম স্যারের কিছু জীবন নির্ধারণী অণুপ্রেরণামূলক কথার মাধ্যমে'- বলছিলেন মুহাম্মদ ফরিদ হোসাইন পাটওয়ারী।

স্কুলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে প্রথম হয়েছিলেন ফরিদ। এরপর একসময় স্কুল ছেড়ে নটর ডেম কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কলেজে প্রথম হওয়ায় পেয়েছিলেন মেরিট অ্যাওয়ার্ড এবং সেই সঙ্গে নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পেয়েছেন অনারেবল মেনশন অ্যাওয়ার্ড।

ফরিদ বলেন, 'দেখতে দেখতে কলেজজীবন শেষ হয়ে এলে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের জন্য উৎকণ্ঠা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, ফল বের হয়েছে শুনে তা জানার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আধা ঘণ্টায় শেষ করে বের হয়ে যাই। এরপর শুরু হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সহপাঠীদের নিয়ে নতুন যাত্রা।'

ফরিদ আরও বলেন, 'আমি সবসময় দুটো বিষয়ে বিশ্বাস করতাম। প্রথমটি হচ্ছে- পরিশ্রম, দ্বিতীয়টি একটা রুটিন বা প্ল্যান। এ রুটিন বলতে শুধু পড়ার রুটিন নয়, বরং জীবনের একটা রুটিন। ভার্সিটির জীবনটা এভাবে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, একের পর এক পরীক্ষা এবং এরই মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু ছোট ছোট গল্প-আড্ডা আর আলাপচারিতায় কেটে যায়। বিবিএর রেজাল্ট বের হলো। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেলাম। এ ফলাফলের জন্য পেলাম ডিন'স মেরিট অ্যাওয়ার্ড ও ডিন'স অনার অ্যাওয়ার্ড, মকবুল হাসান মেমোরিয়াল স্কলারশিপ।'

ফরিদের স্বপ্ন শিক্ষকতা করা। যাতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কিছু শ্রেষ্ঠ মানুষ তৈরি করতে পারেন। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন যারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আসতে যাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে ফরিদ বলেন, 'জীবনের লক্ষ্য ও সেই মাফিক পরিশ্রম, ব্যবহারে বিনয়ী আচরণের সংমিশ্রণ এবং সর্বোপরি আল্লাহর রহমতই পারে একজন মানুষকে পৌঁছে দিতে তার গন্তব্যের সর্বোচ্চ শিখরে।' া