দিন রাত্রি

দিন রাত্রি


বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০      

তারিক হাসান

ইউনিভার্সিটি নির্বাচনের আগে কোথায় এবং কোন বিষয়ে আপনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, তা ঠিক করে নেওয়া ভালো। শুরুতেই এ বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যাক। কোথায় বলতে দুটি বিষয়কে বোঝানো হয়েছে। প্রথমটি কোন দেশ, দ্বিতীয়টি কোন এলাকা। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার জন্য পছন্দের দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সুইডেনসহ আরও কিছু দেশ। আবার এলাকা বলতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক সিটি অথবা ওয়াশিংটন, যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে লন্ডন, কানাডার ক্ষেত্রে টরন্টো, অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে সিডনি ইত্যাদি এলাকা পছন্দের। এবার আসা যাক বিষয় প্রসঙ্গে। কেউ যদি টেকনিক্যাল বিষয়ে পড়াশোনা করতে চান, তার উচিত টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর প্রতি প্রাধান্য দেয় এমন ইউনিভার্সিটিতে পড়া। কিছু ইউনিভার্সিটি বিশেষ কিছু বিষয়ের জন্য পৃথিবীখ্যাত। যেমন সুইডেনের স্টকহোম ইউনিভার্সিটির মেডিকেল বিষয়ক পড়াশোনার খ্যাতি রয়েছে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনার খ্যাতি রয়েছে। বিষয়ের প্রাধান্য দিয়ে ইউনিভার্সিটি বাছাই করা উচিত।

কোথায় পড়াশোনা

কোথায় পড়াশোনা করবেন, তা ঠিক করার আগে চারটি বিষয় মাথায় রাখুন।

ষ আপনি দেশে কীভাবে পড়াশোনা করেছেন এবং বিদেশের উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আপনি কী চান?

ষ আপনার পছন্দের বিষয় অথবা গবেষণার বিষয়।

ষ আপনার পছন্দ অনুযায়ী বেশকিছু ইউনিভার্সিটির প্রোফাইল।

ষ আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য, কোর্স খরচ এবং ভর্তির যোগ্যতা।

এ চারটি বিষয় নিয়ে ভাবলে কোথায় পড়াশোনা আপনার জন্য ভালো হবে তার ধারণা পেয়ে যাবেন। এ ধারণা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।

সুযোগ-সুবিধা আবাসন ও খরচ

টিউশন ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে। কোথায় পড়াশোনা করবেন, তার জন্য যে দেশ অথবা এলাকার সুযোগ-সুবিধা, আবাসন ও খরচের বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন জাপানে পার্টটাইম জবের বেশ সুযোগ রয়েছে, যারা জাপান সরকারের বৃত্তি পেয়ে পড়াশোনা করতে যান, তাদের টিউশন ফি দিতে হয় না। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে (মাস্টার্স, ডক্টরেট) আর্থিক সাহায্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা থেকে সিডনিতে আবাসন খরচ বেশি। এ রকম অনেক খুঁটিনাটি বিষয়কে ঘিরেই এলাকা নির্ধারণ করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম জব করার সুযোগ থাকে শিক্ষার্থীদের। তবে এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হয়। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি চাকরির ক্ষেত্রে সময় দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এসব দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।