দেহঘড়ি

দেহঘড়ি


ই-হেলথ

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০১৯      
কোরবানি ঈদে  দাঁতের যত্ন
ডা. কামরুল হাসান
সিনিয়র প্রভাষক
পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ

দাঁত শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো জরুরি এবং অপরিহার্য একটি অঙ্গ। সুন্দর একটি হাসির জন্য সুস্থ দাঁতের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। সঠিক সময়ে দাঁতের সঠিক যত্ন ভবিষ্যতের চরম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখে ২৮-৩২টি দাঁত থাকে। প্রতিটি দাঁত সঠিকভাবে পরিস্কার করার জন্য কিছু জিনিসের ওপর নজর দেওয়া উচিত।

সামনে কোরবানি ঈদ আসছে। ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু এ খুশি হঠাৎ করেই এক নিমিষেই ভয়ঙ্কর যন্ত্রণায় পরিণত হতে পারে, যদি দাঁতে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।

কোরবানি ঈদে আমাদের অনেকেরই মাংস এবং মাংস জাতীয় খাদ্যদ্রব্য বেশি খাওয়া হয়। তাই দুই দাঁতের মাঝের ফাঁকায় যেন মাংস বা কোনো ধরনের খাদ্য আটকে না থাকে, তার জন্য ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।

দাঁত ব্রাশ করার জন্য সঠিক ব্রাশটি নির্বাচন করুন। ১.৫-২ মিনিট ব্রাশ করার জন্য যথেষ্ট সময়। অনেকেই লম্বা সময় ধরে ব্রাশ করেন, এটা মোটেই ঠিক নয়।

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ও সকালে নাশতার পরে ব্রাশ করুন।

খুব জোরে ব্রাশ করা যাবে না, এভাবে ব্রাশ করলে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে দাঁতের কিছু অংশ ক্ষয় হয়ে যায়, একে ডাক্তারি পরিভাষায় 'অ্যাব্রাসন' বলে। এমন ক্ষেত্রে পরে মিষ্টি খাবার বা ঠাণ্ডা কিছু খেতে গেলে শিরশির অনুভূত হয়।

ব্রাশের ব্রিসল (যেটা দাঁতের গায়ে লাগানো হয়) বাঁকা বা এবড়ো-খেবড়ো হয়ে গেলে আপনার ব্রাশটি পরিবর্তন করুন। সাধারণত ২-৩ মাস পরপর ব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত।

দুই দাঁতের মাঝে আটকে পড়া আঁশজাতীয় খাবার বা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য পরিস্কার করার জন্য ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। 'ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ' এটি দাঁত পরিস্কার রাখার জন্য আরও একটি চমৎকার জিনিস। এটি দেখতে ছোট আকৃতির একটি ব্রাশ, যা আপনি পকেটে বা সঙ্গে রাখতে পারবেন। যখন স্বাভাবিক ব্রাশিংয়ের পরেও কিছু অংশ পুরোপুরি পরিস্কার হয় না, সে ক্ষেত্রে দুই দাঁতের মাঝের খাবার পরিস্কারের জন্য ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ যথেষ্ট কার্যকরী।

একটি সঠিক মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। তবে যে কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। এতে আপনার মুখের ভেতরে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ইফেক্ট (ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধে কার্যকরী) তৈরি করে।

দাঁতের কোনো এক অংশে যদি কোনো খাদ্যকণা দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে, তাহলে সেখান থেকে খাদ্যকণা পচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া বসবাসের জন্য পরিবেশ তৈরি করে। স্ট্রেপটোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ভিরিডেন্স গ্রুপ ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে; যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ফেলে এবং ডেন্টাল ক্যারিস তৈরি করে। এর ফলে দাঁতে গর্ত সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ফিলিং অথবা রুট ক্যানাল চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। তাই আগে থেকেই সচেতন হওয়া উচিত। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে 'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর' সবার ঈদ সুস্থ ও সুন্দর কাটুক- এই শুভ কামনা রইল।

টিউমার মানেই ক্যান্সার নয়

ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
রেডিয়েশন অনকোলজি
এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। পাশাপাশি নানা রকমের ভীতিও যোগ হচ্ছে। আজকাল ছোটখাটো টিউমার হলেই অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান- ক্যান্সার হলো কি-না? অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক বুঝিয়ে বলার পরও ভয় কাটতে চায় না। তাই টিউমার বা ক্যান্সার সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা থাকা ভালো। এতে আক্রান্তরা উপকৃত হতে পারবেন। টিউমার হলো শরীরের অস্বাভাবিক টিস্যু পি, যার কোষ বৃদ্ধি হয় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দ্রুত, অনিয়ন্ত্রিত ও সমন্বয়হীনভাবে।

কোষের ধরন ও আচরণ অনুযায়ী টিউমার দুই ধরনের- বিনাইন ও ম্যালিগনেন্ট। বিনাইন টিউমার বিপজ্জনক নয়। তবে ম্যালিগনেন্ট অত্যন্ত ক্ষতিকর। ক্যান্সার এক ধরনের ম্যালিগনেন্ট টিউমার। বিনাইন টিউমার একটি আবরণ দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এটি ধীরে ধীরে বাড়ে। আশপাশে বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে ছড়ায় না এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভালো হয়। তবে ম্যালিগনেন্ট টিউমার স্বভাবতই কোনো আবরণ দ্বারা বেষ্টিত থাকে না। ফলে এর বৃদ্ধি হয় অনিয়ন্ত্রিত ও অগোছালো।

অতি দ্রুত বেড়ে আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। রক্তের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করানো গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্তরা সুস্থ হতে পারেন। অতএব, শরীরে ফোলা বা টিউমারের আচরণ যদি ম্যালিগনেন্ট টিউমারের বৈশিষ্ট্যের মতো না হয় এবং রোগীর যদি ক্যান্সারের অন্যান্য লক্ষণগুলোর কোনোটাই না থাকে তাহলে ওই টিউমার নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তাই শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসরে পরামর্শ নিন।

গ্রন্থনা : ডা. তারিক হাসান