দেহঘড়ি

দেহঘড়ি


ত্বক সুরক্ষায় সানস্ট্ক্রিন

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

ডা. তাওহীদা রহমান, ডার্মাটোলজিস্ট, শিওর সেল মেডিকেল (বাংলাদেশ) লি.

ক্রিকেট খেলা দেখার সুবাধে সানস্ট্ক্রিন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ অনেকটা বেড়েছে। সাকিব, মাশরাফি, মুশফিকরা যখন সাদা ক্রিমের মতো কিছু মুখে মেখে খেলতে নামেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল জাগে এই সঙ সাজার অর্থ কী? এটা কোনো সঙ বা ঢং নয়। ত্বক সুরক্ষার অত্যাবশ্যকীয় কৌশল। আসলে সূর্যের আলো হলো ডবল এজ ব্লেড বা শাঁখের করাতের মতো। এই আলো একদিকে ভিটামিন-ডি ঢেলে দেয়, অন্যদিকে মেলানিন বাড়িয়ে মেলানোমা আর ত্বকের ক্যান্সারের উদ্রেক ঘটাতে পারে। আফ্রিকা, ইউরোপে নারী-পুরুষ সবাই মজা করে রৌদ্রস্নান করে; কিন্তু এ আনন্দেরও খেসারত তাদের দিতে হয়। ত্বকের শুভ্রতা আর মোলায়েম ভাব তো নষ্ট হয় উপরন্তু ত্বকের মারণঘাতী রোগ তাদের সেই সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সবটাই কেড়ে নেয়।

আমাদের ত্বকের নিচে মেলানিন নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ রয়েছে, যা সূর্যের আলো ও অতি বেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ত্বকে সূর্যের আলো পড়লে এই মেলানিন উৎপাদনের হার বেড়ে যায়। ত্বকের রঙের জন্য এই মেলানিন দায়ী। বাদামি ও কালো রঙের শরীরে মেলানিন বেশি থাকে; কিন্তু শ্বেতাঙ্গদের শরীরে মেলানিন থাকে কম; যে কারণে তাদের ফর্সা দেখায়। ফর্সা লোকেরা যদি রৌদ্রস্নান করে তাহলে ত্বকে সূর্য রশ্মির প্রভাবে ত্বক পুড়ে যায়। এতে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বকের কোষগুলো।

এ জন্য প্রখর রোদে বের হলে সানস্ট্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। ইনজেকশন হিসেবেও মেলানিন শরীরে প্রয়োগ করা যায়। এ মেলানিন রোদে ছাতার মতো কাজ করে। এ ধরনের কোনো প্রতিরক্ষা ছাড়া রোদে বের হলে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে ভাঁজ পড়ে, এমনকি ত্বকের ক্যান্সারও ঘটে থাকে। ত্বকে এক ধরনের ফুসকুড়িও দেখা দেয়। এ ফুসকুড়ির নাম পলিমরফিক লাইট ইরাপশন। এর ফলে ত্বকে চুলকানি হয়, ত্বক লালবর্ণ ধারণ করে। দেখতে ঠিক একজিমার মতো মনে হয়। পলিমরফিক লাইট ইরাপশন কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। নারীরা পুরুষদের চেয়ে এ সমস্যায় আক্রান্ত হয় বেশি। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ব্রড স্পেকট্রাম বা বড় মাত্রার সানস্ট্ক্রিন ব্যবহার করা, যা কি-না সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মিকে ত্বকে পৌঁছতে দেয় না বা বাধা দেয়। যে সানস্ট্ক্রিনগুলো সচরাচর পাওয়া যায় সেগুলো হলো- পিজ বুইন সানব্লক এসপিএফ ২০; রো সি টোটাল সানব্লক এসপিএফ ১৬; স্পেকট্রোবান আলট্রা এসপিএফ ১৭; সান ই ৪৫ সান ব্লক এসপিএফ ২৫; ইউভিস্টাট আন্ট্রাব্লক এসপিএফ ৩০; নিউট্রেজনা এসপিএফ ১৫। এসপিএফ মানে হচ্ছে- সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর বা সূর্যরশ্মি প্রতিরোধে কার্যকর উপাদান।

রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ট্ক্রিন শরীরের উন্মুক্ত স্থানে মেখে রোদে বের হলে ত্বক ভালো থাকবে ও ত্বক রোদে পুড়ে শুস্ক এবং মলিন হবে না। তবে ক্রিম এমনভাবে মাখবেন না, যার ফলে লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ফলিকুলাইটিস হতে পারে। মনে রাখতে হবে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যালোকের তেজ বেশি থাকে। ২১ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সূর্যকিরণ অনেকটা লম্বালম্বিভাবে পৃথিবীর ওপর পড়ে। এ সময় একটু বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে ত্বকের দিকে।