ই-হেলথ

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      
কোষ্ঠকাঠিন্য  সতর্ক হোন

ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ
এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

সঠিক সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধানে চিকিৎসা করা উচিত। অন্যথায় বিভিন্ন জটিল সমস্যা হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সে জন্য দিনে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটাচলা করা প্রয়োজন। তবে ধীরে ধীরে হাঁটতে হবে কিংবা দৌড়াতে হবে এমনটি নয়। মাঝারি গতিতে হাঁটবেন।

একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করবেন এবং শাকসবজি খাবেন। লাল মাংস বিশেষ করে গরু ও খাসির মাংস এড়িয়ে চলবেন। কারণ এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা না হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে জটিলতা হতে পারে। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ফিশার হয়, পাইলস হয়। পায়খানার একটি অংশ আরেকটি অংশের মধ্যে ঢুকে যায়। এমনকি দীর্ঘ সময় যদিকোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তাহলে মলদ্বার বা বৃহদন্ত্রে ক্যান্সারও হতে পারে। তবে অনেক সময় রোগীরা অপচিকিৎসার শিকার হন। তাই পরামর্শ থাকবে যে, পায়খানার রাস্তায় সমস্যা হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে অবহেলাও করা যাবে না। সবার কাছে আবেদন থাকবে, পায়খানার রাস্তায় সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসক না দেখিয়ে কোনো ওষুধ ব্যবহার করবেন না। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।



কানের সমস্যা  থেকে বধিরতা

ডা. মনিলাল আইচ
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ইএনটি বিভাগ
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল

কান মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কানের সমস্যা থেকে অনেক সময় বধিরতা হতে পারে। কানের পর্দায় সমস্যা বা কান থেকে পুঁজ পড়ছে, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। তবে এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। ঠাণ্ডা জিনিস, বিশেষ করে আইসক্রিম খাবেন না।

এরপরও এ সমস্যা হলে মনে করবেন, কানের পর্দা ছিঁড়ে গেছে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও এ সমস্যা হতে পারে। কানের সমস্যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এখন অস্ত্রোপচার করা হয় না। ওষুধের মাধ্যমে রোগীকে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, যাদের কানের সমস্যা আছে, তারা যেন সব সময় ঠাণ্ডা বা শীত এড়িয়ে চলেন। কানের এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ও ড্রপ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। তবে মধ্যকর্ণ সংক্রমিত হলে আবার ফাঙ্গাস সংক্রমণ হতে পারে। তখন অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া কানের সমস্যায় সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, চিকিৎসা নিন।

নিয়ম মেনে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব

ডা. আবু রায়হান
প্রকল্প পরিচালক ও উপ-পরিচালক
২৫০ শয্যার শ্যামলী টিবি হাসপাতাল

হাঁপানি একটি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। এই রোগটি নিরাময়যোগ্য নয়; কিন্তু সঠিকভাবে নিয়ম মেনে ও ওষুধ খেলে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এক্ষেত্রেও রোগীকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সাধারণত তাপমাত্রা পরিবর্তন, ভাইরাসজনিত শ্বাসনালির রোগ, ধুলোবালি, পরিশ্রম ইত্যাদি কারণে হঠাৎ হাঁপানিজনিত শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে যেতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে ইনহেলার বারবার নিয়ে বা নেবুলাইজেশনের মাধ্যমে স্যালবিউটামল নিয়ে বাসায় শ্বাসকষ্ট কমানো যেতে পারে। অনেক সময় হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা নিতে হয়। তীব্র হাঁপানি হলে বা হাঁপানির জন্য তীব্র কাশি হলে অনেক সময় অ্যালভিওলাই ফেটে যেতে পারে। ফলে ফুসফুস ও বুকের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় বাতাস জমে নিউমোথোরাক্স অথবা দুই ফুসফুসের মাঝের জায়গায় বাতাস জমে নিয়মোমেডিয়াস্টিনাম হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে রোগীর শল্য চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। ছত্রাকজনিত কারণে হাঁপানি রোগীর কফের সঙ্গে প্রচুর শ্নেষ্ফ্মা যায়। এ অবস্থায় রোগীর হাঁপানি তীব্রতা বেড়ে যায় এবং মাঝে মধ্যে কাশির সঙ্গে রক্ত যায়। তাই এ ধরনের সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন, ভালো থাকুন।

হাঁপানি একটি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। এই রোগটি নিরাময়যোগ্য নয়; কিন্তু সঠিকভাবে নিয়ম মেনে ও ওষুধ খেলে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এক্ষেত্রেও রোগীকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সাধারণত তাপমাত্রা পরিবর্তন, ভাইরাসজনিত শ্বাসনালির রোগ, ধুলোবালি, পরিশ্রম ইত্যাদি কারণে হঠাৎ হাঁপানিজনিত শ্বাসকষ্ট ও কাশি বেড়ে যেতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে ইনহেলার বারবার নিয়ে বা নেবুলাইজেশনের মাধ্যমে স্যালবিউটামল নিয়ে বাসায় শ্বাসকষ্ট কমানো যেতে পারে।

অনেক সময় হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা নিতে হয়।

পরবর্তী খবর পড়ুন : স্মৃতিভ্রমের টি লক্ষণ

অন্যান্য