দেহঘড়ি

দেহঘড়ি


শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে যা প্রয়োজন

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০১৯      

ডা. আবু সাঈদ শিমুল, কনসালট্যান্ট, শিশু বিভাগ, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

শিশুকে ঘিরে মা-বাবার স্বপ্নের শেষ নেই। মা বলেন তাকে ডাক্তার বানাবেন; কিন্তু বাবা চান ইঞ্জিনিয়ার বানাতে। কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে মনের অজান্তেই এমন কিছু ভুল তারা করেন, যার মাশুল দিতে হয়। নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে এ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ চলার পথে প্রতিনিয়ত নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনার সন্তান পাবে সুস্থ সুন্দর পরিবেশ, যা তার মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। এ জন্য সন্তানকে সততার শিক্ষা দিন। দায়িত্ব সম্পর্কে বোঝান। বড়দের সম্মান করতে শেখান। তাকে বোঝান, সব কাজে ধৈর্য ধারণ করতে হয়। এসব শিক্ষার মাধ্যমে তার জীবনের মজবুত ভিত্তি তৈরি হবে।

শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে করণীয়সন্তানের খাওয়া, ঘুম, খেলার সময় নির্দিষ্ট করে দিন। এতে সে সময়ানুবর্তিতা শিখবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাকে নতুন নতুন বই উপহার দিন। একটা বই পড়া শেষ হলে তার কাছে বইটি সম্পর্কে জানতে চান। যে কোনো ভালো কাজের জন্য তার প্রশংসা করুন, তা যতই ছোট হোক। খারাপ কাজের জন্য কখনও বকা দেবেন না, বুঝিয়ে বলুন কাজটি কীভাবে করা উচিত ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর একটি নিজস্ব জগৎ গড়ে ওঠে, তাতে আমাদের বাধা দেওয়া উচিত নয়, বাধা দেওয়ার প্রয়োজন হলেও তার উপযোগী করে বোঝানো উচিত, যাতে সে বিষয়টি বুঝতে পারে। শিশুর মনে থাকে হাজার প্রশ্ন, শিশু যখন তার জানার আগ্রহ প্রকাশ করে, তখন আমাদের উচিত, শিশুদের কৌতূহল মেটানো, তাদের প্রতি বিরক্ত প্রকাশ না করা, তারা যেন কোনো অবস্থাতেই নিরুৎসাহিত বোধ না করে। শিশুকে পরিমিত আদর করতে হবে, অতিরিক্ত আদর ক্ষতিকর। শিশুর সব চাহিদা সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করা ঠিক নয়। তার চাহিদা পূরণ করা বা না করার পেছনে যুক্তি দিয়ে তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। এতে করে শিশু অতিরিক্ত জেদ করা শিখবে না এবং বুঝতে শিখবে চাইলেই পাওয়া যায় না। নিজের রাগ বা বিরক্ত কখনই শিশুর ওপর প্রকাশ করা ঠিক না। পারিবারিক বিষয়ে রাগারাগি, হৈচৈ শিশুর সামনে করা উচিত নয়। বড়দের বিষয় নিয়ে ছোটদের সামনে কথা বলা উচিত নয়। এতে শিশু এককেন্দ্রিক বা মানসিক প্রতিবন্ধীও হয়ে যেতে পারে। শিশুদের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। শিশুদের খেলনা নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে। পিস্তল জাতীয় খেলনা না দিয়ে সৃজনশীল খেলার জিনিস দিতে হবে। তাদের চার দেয়ালের মধ্যে আটকে না রেখে অন্য ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ করে দিন। পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে দিন। নির্দিষ্ট বয়সে স্কুলে পাঠান। শিশুর যত্ন নিন, ভবিষ্যৎকে সুরক্ষা করুন।