ডাক্তারবাড়ি

ডাক্তারবাড়ি


দাঁতের রুট ক্যানেল

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

ডা. কাজী রুমানা শারমীন

সারারাত প্রচণ্ড দাঁতের ব্যথায় মোহনা ছটফট করেছে। পর দিন কোনোরকম দিন পার করে বিকেলে ছুটে গেল ডেন্টিস্টের কাছে। ডেন্টিস্ট ভালোভাবে চেকআপ করে কনফার্ম হওয়ার জন্য মাড়ির এক্স-রে দিলেন। রিপোর্ট দেখে আগে যা ধারণা করেছিলেন তাই হলো, রুট ক্যানেল করতে হবে মাড়ির দাঁতে। এখন মোহনার প্রশ্ন হলো-

১. রুট ক্যানেল চিকিৎসা আসলে কী?

রুট ক্যানেল হলো দাঁতের এমন একটা চিকিৎসা, যেখানে দাঁত না ফেলে কেবল দাঁতের ইনফেকটেড দন্তমজ্জা বের করে দাঁতকে দাঁতের জায়গায় সচল ও কর্মক্ষম রাখা।

২. কখন রুট ক্যানেল করার প্রয়োজন হয়?

প্রাথমিকভাবে দাঁতে সামান্য ক্যারিজ বা ক্ষয় হলে তা চিকিৎসা করিয়ে নিলে রুট ক্যানেল পর্যন্ত যেতে হয় না। যদি অবহেলা করে ক্যারিজ দীর্ঘদিন রেখে দেওয়া হয় তবে তা দাঁতের দন্তমজ্জা বা নার্ভ পর্যন্ত চলে গিয়ে রুট ক্যানেলের পরিস্থিতি তৈরি করে।

৩. সব দাঁতেই কি রুট ক্যানেল করা হয়?

সাধারণভাবে আক্কেল দাঁত ছাড়া অন্য সব দাঁতে রুট ক্যানেল করা হয়ে থাকে। তবে কোনো কারণে যদি মাড়ির প্রথম অথবা দ্বিতীয় দাঁত না থাকে কেবল সেক্ষেত্রেই আক্কেল দাঁতের রুট ক্যানেল করা হয় ব্রিজ নামক চিকিৎসা করার জন্য।

৪. ছোটদের দাঁতেও কি রুট ক্যানেল করা যায়?

ছোটদের দাঁতের রুট ক্যানেলকে বলা হয়, পালপেকটোমি। সহায়ী দাঁত যাতে ঠিকভাবে ও সঠিক জায়গায় আসতে পারে তার জন্য দুধদাঁতকে অনেক সময় পালপেকটোমি করে রেখে দেওয়া হয়।

৫. রুট ক্যানেল-পরবর্তী চিকিৎসা কি?

রুট ক্যানেল করার সময় সাধারণভাবে দাঁতের মাঝে গর্ত করে ইনফেকটেড নার্ভ বা দন্তমজ্জা বের করে আনা হয়। তাতে দাঁতের শক্তি কিছুটা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী অর্ধেক বা তারও বেশি দাঁত ভেঙে নিয়ে আসেন। তাই দাঁতটিকে রুট ক্যানেল করার পর শারীরিকভাবে কর্মক্ষম ও সচল রাখার জন্য রুট ক্যানেলের পর ক্রাউন বা ক্যাপ করে নিতে বলা হয়। এতে দাঁত আগের মতো শতভাগ শক্তিশালী না হলেও ৮০ থেকে ৯০ ভাগ শক্তিশালী ও কর্মক্ষম থাকে।

৬. রুট ক্যানেল করা দাঁতের যত্ন কী?

রুট ক্যানেল করা দাঁত স্বাভাবিক দাঁতের তুলনায় একটু বেশি যত্ন নিতে হয়। নিয়মিতভাবে ব্রাশ, ডেন্টাল ফ্লস ও ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করে দাঁত পরিস্কার রাখা; শক্ত ও মচমচে ধরনের খাবার পরিহার করা; মাড়ি নিয়মিতভাবে ম্যাসাজ করা ও বছরে অন্তত একবার ডেন্টাল চেকআপে যাওয়া।

৭. রুট ক্যানেল পরিহারের উপায়?

একটু সচেতনতাই পারে আমাদের দাঁতের এ ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে। ছয় মাসে না হোক অন্তত বছরে একবার ডেন্টাল চেকআপে যাওয়া; নিয়মিত সকালে নাশতা খাবার পর ও রাতে শোবার আগে দাঁত ব্রাশ করা; দিনে অন্তত একবার ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা; মিষ্টি ও বেকারি আইটেম, সফট ড্রিংকস খাবার পর ভালোভাবে কুলি করা। সামান্য একটু সচেতনতাই আমাদের দিতে পারে সুন্দর ব্যথামুক্ত হাসিমাখা মুখ।

[ডেন্টাল সার্জন, ল্যাবএইড ডেন্টাল ক্লিনিক, ধানমন্ডি-৪, ঢাকা]