স্মৃতিগুলো শহরজুড়ে

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০১৯      

রাফাতুল আরাফাত

প্রিয়বতী হেমা,

এক সন্ধ্যাবেলায় আমাকে আপনি শিখিয়েছিলেন নীরবতারও শব্দ আছে, আর তা মধুরতম শব্দগুলোর একটি। তবে আপনি কি নীরবতার কোলাহল সম্পর্কে জানতেন? এ বড় ভয়ানক। ক্রমে মানচিত্র সংকুচিত হয়। তবে কারও ভারি নিঃশ্বাসের শব্দ কারও কানে পৌঁছাতে পারে না। এ শহরের বুকে আমাদের স্থান হয়নি। এ শহর আমাদের গ্রহণ করেনি। অথচ এই শহরের অলিগলিতে আমাদের পায়ের ছাপ।

কেমন আছেন? জানি ভালো নেই। শহরও ভালো নেই খুব বেশি। ক্রমাগত যন্ত্রের যান্ত্রিকতায় পিষ্ট নাগরিকরা পা বাড়ায়, অবাক হতে ভুলে যাওয়া মানুষের দরজায় নেই কোনো মুক্তির গান। আজকাল মধ্যরাত হলেই জানালায় আছড়ে পড়ে হাহাকার, গোলাপ বাগানে বারুদের গন্ধ। মুক্তির তাড়নায় ছুটতে থাকা মানুষের মুক্তি কোথায়? শহর যেন আজ আলোছায়া...

যতটা পাষাণ হতে চেয়েছিল কংক্রিট ততটা কি পেরেছে, হেমা? কংক্রিটের যাবতীয় হেঁয়ালিপনা তো হেলেঞ্চাকে ঘিরেই, যেখানে প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়ে ঝলক বাতাস, এলোমেলো উড়ে কোঁকড়ানো চুলগুলো। আলোছায়ায় প্রতিনিয়ত রঙ বদলানো শহর কখনও কখনও স্তব্ধ হয়ে যায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য। ব্যস্ত দিনের শেষ কিংবা অলস দুপুরে স্মৃতিরা উড়ে বেড়ায় শহরজুড়ে... আপনার মৃদু হাসিতেও কখনও চোখ আটকে যেত শহুরে কংক্রিটে! শহুরে কংক্রিটের কান্না কি কখনও আপনার কানে পৌঁছাতে পারে?

আমিও ভালো নেই। কেমন একটা চাপা ভয় নিয়ে জেগে থাকি সারারাত। মাঝরাতে কুহকটা যেন মরাকান্না কেঁদে যায়। বুকের ভেতরটা মুচড়ে ওঠে।

কখনও সেভাবে বুঝে ওঠাও হয়নি। তবে বিশ্বাস করি, অন্ধকারের পরই আলো আসে। জানালায় যেন একটা সুন্দর ভোর দাঁড়িয়ে আছে চোখে-মুখে আপনাকে রাঙিয়ে দেওয়ার অপেক্ষা নিয়ে।

ইতি, আপনার রৌদ্র

শ্রীপুর, গাজীপুর

পরবর্তী খবর পড়ুন : নুয়ে থাকা ইচ্ছেরা

অন্যান্য