চারমাত্রা

চারমাত্রা


অজানা চিঠি

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০১৯      

আফফান ইয়াসিন

প্রিয়তম,

দুঃখ আর আবেগ জড়ানো পত্রের শুরুতেই তোমাকে শুভেচ্ছা। আশা করি ভালোই আছ। নিশ্চয়ই জানতে চাচ্ছ পত্রটা কে লিখেছে?

আমি অতি ক্ষুদ্র, ভাবতে পার নগণ্য। তোমার সন্তোষজনক চাহনির জন্যই আমার এই ছদ্মনাম গ্রহণ। নিভৃতে তোমার কল্পনা করে নিঃশব্দে তোমাকে নিয়েই একটি গল্প সাজিয়ে ছিলাম। সেই কবে তোমাকে প্রথম দেখার পর আমার অন্তর-গহিনে কেমন সুখের আবহাওয়া বিরাজ করতে শুরু হয়েছিল! সেই আবহাওয়াটাই আমাকে স্থির থাকতে দিত না। ব্যাকুল আর চঞ্চল হৃদয় নিয়ে কোনো রকম দু'মুঠো খাবার মুখে দিয়েই তোমার নিরাপত্তা প্রহরীর কাজে মগ্ন হতাম, যা তোমার কাছে আজও অজানাই রয়ে গেল! জানো, এ জন্য আমার কোনো মনঃকষ্ট নেই। কেননা, তোমার সুখের আবহাওয়াটা কষ্ট প্রতিরোধের উত্তরীয় হিসেবে কাজ করেছিল। কেমন জানি মনে হতো স্বচ্ছ স্বপ্নালি প্রজাপতির মতো আমার ভেতরটাও স্বপ্নের জাল বুনত। কোনো অবস্থাতেই আমার অনুধ্যানে ছিল না অন্য কেউ তোমার সৌন্দর্য দর্শন করবে! কেন জানি এটাকে নিছক হাস্যকর ব্যাপার মনে হতো। আর এখন আমার অবস্থা জানতে চাও? অস্থিরতায় নিমজ্জিত একটা প্রাণহীন দেহ। দিন যত যাচ্ছে অসচেতনতা, যত্নহীন আর অবহেলা শব্দগুলো খুব প্রিয় হচ্ছে আমার কাছে। মনে হয়, পৃথিবীটা শুধুই রস আর অর্থহীন। বেঁচে থাকাটা হাহাকার ছাড়া এখন আপাতত অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। আর নীরবে তেজস্বী এই প্রাণটাকে নিস্তেজ করার পেছনে তুমিই যে দায়ী হয়ে থাকবে- এ কথাটা তুমি-আমি ছাড়া অন্য কেউ জানবে না। এটা শুধুই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিরকাল রয়ে যাবে। তুমি অবাক হয়ে যাবে ব্যর্থ এই দেহটাকে তোমার হ্যাঁ বাচক একটি উক্তিই পারে প্রাণ সঞ্চার করতে!

ইতি, এই ভাবনায় বসে থাকা তোমার সুখের রথচালক।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়