চারমাত্রা

চারমাত্রা


আমাদের সেই দিনগুলি

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০১৯      

জেলি আক্তার

প্রিয় বান্ধবী মুন,

আধুনিক যুগে আজকাল চিঠি লেখা হয় না। তবুও আজ লিখছি। পরিচয়ের বয়স হিসাব করলে হবে প্রায় সাত বছর। দিনের হিসাব করলে দাঁড়াবে দুই হাজার ছাপ্পান্ন দিন। মাসের হিসাব করলে দাঁড়াবে প্রায় চুরাশি মাস, সপ্তাহের হিসাব করলে দাঁড়াবে প্রায় তিনশ' পঁয়ষট্টি সপ্তাহ। ঘণ্টার হিসাব করলে দাঁড়াবে একষট্টি হাজার তিনশ' চুয়াল্লিশ ঘণ্টা। আর মিনিটের হিসাবে ছত্রিশ লাখ আশি হাজার তিনশ' চল্লিশ, সেকেন্ডের হিসাব না হয় বাদই দিলাম। এই হৃদয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য বন্ধন। এটা কোনো রাসায়নিক বন্ধন নয়, সমযোজী বন্ধন নয় এবং নয় কোনো আয়নিক বন্ধন। এই বন্ধন অদৃশ্য কোনো সুতোয় গাঁথা হৃদয়ের বন্ধন। একটা সময় ছিল, চোখের দিকে তাকালেই কেমন করে জানি হাজারো প্রশ্ন হাজারো উত্তর লেনাদেনা হয়ে যেত। বাহানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো। ইশারাগুলো যে বড্ড পরিচিত ছিল। তোর সঙ্গে দেখা মানেই বাহানার তুলে রাখা, তারপর আড্ডা রাজ্যের সমস্ত গল্প।

আজকাল সম্পর্কটা দূরত্বের কবলে পড়ে কেমন যেন বড্ড বেমানান হয়ে যাচ্ছে। আজকাল কথা বলতে কারণ, অজুহাত কিংবা বিরক্তির মতো ভয়ঙ্কর হাজারটা কারণ চোখ রাঙাচ্ছে। আচ্ছা একটা ইংরেজি প্রবাদবাক্য শিখেছিলাম, তোর মনে আছে নিশ্চয়ই- Out of sight out of Mind. চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল হওয়া? উপস্থিত নিঃসঙ্গতা কতটা বেদনাময় শুধু সে-ই জানে যে বেদনার সঙ্গে নিঃসংকোচে সময় পার করে। কখনও ছায়ার মতো, কখনও আঠার মতো লেপ্টে থাকা অস্তিত্ব যদি হঠাৎ করেই প্রচণ্ড আঘাত করে, হৃদয়ে ঠাঁই দিয়ে অজানা অভ্যাসগুলোতে অভ্যস্ত করে হৃদয়ের চারপাশে আনাগোনা নিষিদ্ধ করে দেয়, তাহলে কতটা ভালো থাকা যায়- প্রশ্ন রেখে গেলাম।

জানিস, আমার বইয়ের পাতার ফাঁকে আজও একটা শুকনো গোলাপ কলি আছে। শুধু নেই ফেলে আসা সেই দিনের সেই চেনা মুখটা পরিচিত মুখের অপরিচিত রূপ কতটা ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা, বেদনা, আর কষ্টের সেটা উপলব্ধি করতে শিখে গেছি। আজকাল খুব করে চাই অভিযোগগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যাক- যোগাযোগের বইয়ের পাতায় কিংবা পুরনো গোলাপ পাপড়িতে মিশে থাক। তবুও যোগাযোগ থাক। আর হ্যাঁ, আমি আরও চাই- রোজ রোজ দেখা হোক অজুহাত কিংবা বাহানায়। এখন থেকে বুড়িয়ে যাওয়া সত্তর কিংবা আশির সীমানায়।

ইতি

বিনি সুতোর বন্ধনে আটকে থাকা কেউ একজন

রসুলপুর, কুড়িগ্রাম