চারমাত্রা

চারমাত্রা


রয়েল বেঙ্গল টাইগার: আমাদের পরিচয়

প্র চ্ছ দ

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০১৯      
বেঙ্গল টাইগার, আমাদের পরিচয় ও ঐতিহ্যের স্মারক।  বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মহারাজ বাঘের নাম সময়ের আবর্তে আজ বিপন্ন প্রাণীদের তালিকায়। আশার কথা, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ আর মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা। আসছে ২৯ জুলাই আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বাঘের গুরুত্ব ও সংরক্ষণ বিষয়ে লিখেছেন প্রাণিবিজ্ঞানী, গবেষক ও বাংলাদেশ টাইগার প্ল্যানের সহপ্রণেতা অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান

বাঘ কেন গুরুত্বপূর্ণ

রয়েল বেঙ্গল টাইগার তথা বাঘ আমাদের জাতীয় পশু। কিছু প্রাণীকে আমরা বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকি। জাতীয় প্রাণী মানে আমাদের জাতির পরিচায়ক বা আইকন। বিশ্বের দরবারে আমাদের সম্মানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো যে উপকরণগুলো আছে তার মধ্যে বাঘ অন্যতম। এর বাইরেও পরিবেশ ও প্রকৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে বাঘের একটি বড় ভূমিকা আছে। পাশাপাশি আমরা যদি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বা ইকো ট্যুরিজমের কথা বলি সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও বাঘের গুরুত্ব অনেক।

প্রথমেই পরিবেশগত দিকের কথা বলি, বাঘ, যাকে বলা হয় টপ গ্রিডেট অর্থাৎ সে মাংসাশী প্রাণীদের শীর্ষে। তাকে অনেকটা তুলনা করা যায় একটি বাগানের মালীর সঙ্গে। একজন মালী যেমন গাছপালা কেটে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে, বাঘও তেমনি বনের প্রাণীদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে। বনের ভারসাম্য বজায় রাখে। বনের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রধান উপকরণ হচ্ছে বাঘ। অনেক জায়গায় এমন উদাহরণ আছে, যেখানে টোক গ্রিডেট যখন শেষ হয়ে যায় তখন পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়, বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করে। বনের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষেত্রে বাঘের বড় ভূমিকা আছে। বাঘ, অন্যান্য প্রাণী যেমন- হরিণ, শূকর, বানর এগুলোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে। এই প্রাণীগুলো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে বনের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে না। তখন দেখা যাবে কোনো একটা নির্দিষ্ট প্রাণী স্বল্প সময়ের জন্য অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে। যেমন হরিণ যদি বনে অনেক বেশি হয়ে যায় তাহলে বনের পূর্ণসৃজন হবে না, হরিণ গাছের চারা খেয়ে ফেলে। বনের যখন পরিসৃজন বন্ধ হয়ে যাবে তখন গাছ এবং গাছের পাতা থাকবে না, তখন হরিণের পরিমাণও কমে যাবে, রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাবে।

দ্বিতীয়ত, স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মূল আকর্ষণ বাঘ। এই বনে বাঘ আছে বলেই আমরা দেশি-বিদেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করতে পারি। এটাকে যদি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারি, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে রেভিনিউ আয়ে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সুন্দরবন ভ্রমণ বাংলাদেশের যে কোনো জায়গা ভ্রমণের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। তারপরও দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন দেখতে চায়। এর কারণ কী? সেখানে নিশ্চয়ই কোনো একটা আকর্ষণ আছে। সেই আকর্ষণের প্রধান উপকরণই হচ্ছে বাঘ। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, সুন্দরবনে গেলে তো বাঘ দেখা যায় না। কোনো বনেই নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যাবে না, ওই বনে গেলে বাঘের দেখা পাওয়া যাবে। কিন্তু বাঘের যে উপস্থিতি সেটাই মূলত মানুষকে আকৃষ্ট করে। যেমন একজন পর্যটক এক জায়গায় গিয়ে অনুভব করছে যে, এখানে বাঘ আছে। এই অনুভূতির মূল্য আছে। বাঘ সরাসরি না দেখলেও সে হয়তো বাঘের পায়ের ছাপ দেখছে, বাঘের ডাক শুনছে। সে ভাবছে, যে কোনো মুহূর্তে আমরা বাঘের মুখোমুখি হয়ে যাব। কম সংখ্যক মানুষই বাঘের মুখোমুখি হয়ে থাকে। এই যে বাঘের উপস্থিতি এ কারণে কিন্তু পর্যটকরা আকৃষ্ট হয়। যখনই আমরা এ রকম পরিবেশবান্ধব পরিবেশ ডেভেলপ করতে পারব তখন সেখানকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। যেমন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপালে বাঘ-হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্প বিকশিত হয়েছে। সেখানে স্থানীয়রা নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে। তারা হয়তো কটেজ চালাচ্ছে, ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করছে, নৌকা ভাড়া দিচ্ছে- এভাবে তারা বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছে।

বাঘ রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপ

বাঘ রক্ষার্থে আমাদের প্রধান পরিকল্পনা 'টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান'। টাইগার অ্যাকশন প্ল্যানের প্রথম ধাপ শুরু হয়ে দ্বিতীয় ধাপ বর্তমানে চলছে। প্রথম ধাপে কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে কিছু হয়নি। দ্বিতীয় ধাপেও অনেক পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়েছে এটা বলা যাবে না। এর প্রধান কারণ হলো রাজস্ব খাতে টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ থাকে না। এই কাজগুলো হয় প্রকল্পভিত্তিক। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়ে থাকে। যেমন বাঘশুমারি একটা প্রকল্প। এর আওতায় বাঘশুমারি হলো, কিন্তু দেখা যায় যে, পরবর্তী তিন বছর আর বাঘ শুমারি হলো না। তাহলে এই তিন বছরে বাঘের অবস্থা ও সংখ্যা আমাদের জানা হলো না। প্রকল্পভিত্তিক কাজ হতেই পারে। মৌলিক কিছু কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজস্ব বোর্ড থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া উচিত। সুনির্দিষ্ট বিরতিতে বাঘশুমারি এবং স্মার্ট পেট্রল নামে আধুনিক সিস্টেম চালু হয়েছে। এই স্মার্ট পেট্রলে বিভিন্ন খাত থেকে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু রাজস্ব বোর্ড থেকে সহায়তা করা হচ্ছে না। বিশেষত এ ধরনের মৌলিক কাজগুলো সরকারের রাজস্ব খাত থেকে নিয়মিত বরাদ্দ থাকা উচিত।

কেন কমছে বাঘ

আজ থেকে ৬০-৭০ বছর আগেও বাঘের সংখ্যা এখনকার তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ঐতিহাসিকভাবে বাঘের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কারণ 'চোরা শিকার'। অবৈধভাবে হরিণ এবং বাঘ শিকার হয়েছে প্রচুর। এটাই মূলত বাঘ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। বাঘ যেহেতু বড় প্রাণী সেহেতু তার খাদ্যের প্রয়োজনে বড় প্রাণী প্রয়োজন, তাই দেখা যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত বড় বনেও যদি বড় শিকার না থাকে তাহলে বাঘ সেখানে টিকতে পারবে না। বড় প্রাণী বড় জায়গায় থাকে। তাকে রক্ষা করে রাখতে হবে। আমাদের সুন্দরবন ছাড়া অন্যান্য যেসব বন আছে সেগুলো তুলনামূলক ছোট হয়ে গেছে। যার ফলে এসব ছোট বনে বড় কোনো শিকার প্রাণী নেই। এসব জায়গায় বাঘ রক্ষা করা কঠিন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অল্প কিছু বাঘ আছে। তবে তার সঠিক হিসাব আমরা জানি না।

সুন্দরবনকেন্দ্রিক শিল্পায়ন

আমরা যদি সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে চাই, তাহলে সুন্দরবনের চারপাশের এলাকা, যা সরকার ঘোষিত ইকোলজি ক্রিটিকাল এরিয়া বা ইসিএ বলে পরিচিত; সেই জায়গাগুলোর পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনো কারখানা নির্মাণ অনুচিত বলে মনে করি। কারণ এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব আমরা ঠেকাতে পারব না। আমরা দেখেছি যে, এই বুড়িগঙ্গার দূষিত কালো পানি মেঘনার মোহনা পর্যন্ত চলে যায়। সুন্দরবনের উত্তরের আশপাশের

এলাকাগুলোতে যদি লাগামহীনভাবে শিল্পায়ন হতে থাকে, পাওয়ার প্ল্যান্ট হয়- এর প্রভাব আজ অথবা কাল পড়বেই। কারণ এই ক্ষতির মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যেমন বুড়িগঙ্গার পানি রাতারাতি নষ্ট হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জমতে জমতে এর পানি নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে সুন্দরবনকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর আশপাশে শিল্পকারখানাকে নিরুৎসাহী করতে হবে।

সেই সঙ্গে সুন্দরবনের বাইরেও নিঝুম দ্বীপ পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি ছোট ছোট ম্যানগ্রোভ বন আছে। সময় এসেছে এগুলোকে কানেক্ট করা। নতুন নতুন বন সৃজন করে এদেরকে যুক্ত করলে বাঘ, হরিণ ও অন্যান্য প্রাণীর গতিপথ বাড়বে। বড় প্রাণীদের রক্ষার ক্ষেত্রে এখন এটি একটি বার্নিং ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে জিনগত যে আদান-প্রদান (ফ্রি মিক্সিং) না হয়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে এদের টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যদি সুন্দরবনের আশপাশের ছোট ছোট বনের মধ্যে করিডোর তৈরি করা যায় তাহলে বাঘের বিস্তৃতি আরও পূর্বদিকে বাড়ানো সম্ভব। পার্বত্য চট্টগ্রামে কিন্তু অল্প হলেও বাঘ আছে, বিশেষত

কাছালং রিজার্ভ ফরেস্ট, সাঙ্গু ওয়াইলাই সেন্টার- এই দুটি জায়গায় বাঘ আছে। কিন্তু সেখানে সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। সেখানে যদি আমরা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি, সেখানকার ফরেস্টগুলোর মাঝে যদি ফরেস্ট করিডরের মধ্য দিয়ে সংযোগ তৈরি করতে পারি তাহলে এসব জায়গাতেও বাঘের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। আমাদের বাঘ তো আছে শুধু সুন্দরবনেই আছে। যদি দ্বিতীয় কোনো জায়গায় বাঘ থাকে তাহলে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাঘ সংরক্ষণে তা সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। সাধারণভাবে যদি বলি, কিছু ডিম যদি দুটি ঝুড়িতে থাকে তাহলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিটা কম আর যদি একটি ঝুড়িতে থাকে তাহলে তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কিন্তু বেশি থাকে। একই রকমভাবে সুন্দরবন ছাড়াও যদি চট্টগ্রামে বাঘ থাকে তাহলে আমাদের ঐতিহ্যের ধারক বাঘকে টিকিয়ে রাখা সহজ হবে।

বাঘ রক্ষায় পার্শ্ববর্তী দেশ ও আমরা

বাংলাদেশের চেয়ে অন্যান্য দেশে, যেমন নেপাল ও ভারতে আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে বাঘ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০১০ সালে রাশিয়ায় যে বাঘ সম্মেলন হয়েছিল, সেখানে যেসব দেশে বুনো বাঘ আছে, এমন ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানসহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। ওই সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে একটি টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই টার্গেটে নেপাল, ভারত ভালো সফলতা অর্জন করেছে। দ্বিগুণ না হোক বাংলাদেশও কিছুটা সফলতা অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে বাঘের যে সংখ্যা, তা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। কারণ গত একশ' বছরে বাঘের সংখ্যা শুধুই কমেছে। গত কয়েক বছরে সর্বপ্রথম বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। যার কৃতিত্ব নেপাল আর ভারতেরই বেশি। তাদের তুলনায় আমরা পিছিয়ে আছি কারণ, আমাদের এখানে বাঘ সংরক্ষণ একটু দেরিতে শুরু হয়েছে। আর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অপ্রতুলতা তো ছিলই।

বাঘ রক্ষায় স্থানীয় জনগণ

দশ বছর আগে বাঘ সংরক্ষণকে যেভাবে দেখা হতো, সাধারণ স্থানীয় মানুষের সেই দৃষ্টিভঙ্গিটা পরির্তন হয়েছে। এখন প্রতি বছর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাঘ দিবস পালিত হয়। বাঘ রক্ষার বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকা ও মিডিয়াগুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরছে, যার ফলে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে মাঠ পর্যায়ে বাঘ সংরক্ষণে যে উদ্যোগ ও কাজ করা হচ্ছে তা আরও টেকসই করার বিষয়ে জোর দেওয়া উচিত। স্মার্ট পেট্রলকে টিকিয়ে রাখতে হবে। স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্য থেকে ভিলেজ টাইগার রেসকিউ টিম গঠন করা হয়েছে। এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। বন থেকে বাঘ লোকালয়ে বেরিয়ে এলে কীভাবে আবার কৌশলে নিয়ন্ত্রিতভাবে তাদের বনে ফেরত পাঠানো যায়, সেই কাজগুলো হচ্ছে।

সুন্দরবন ও বাঘ

বন টিকে থাকার পেছনে বাঘের একটা বড় ভূমিকা আছে। লেখার শুরুতেও বলেছি, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশবান্ধব ইকো ট্যুরিজমের ক্ষেত্রে বাঘের গুরুত্ব আছে। বাঘ মাংসাশী প্রাণীদের কাতারে প্রথমেই অবস্থান করে। তার ভূমিকা নিয়ন্ত্রকের। সে অন্য প্রাণীগুলোকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখে। বাঘের আরেকটা ভূমিকা আছে, সে প্রাকৃতিক প্রহরীর কাজ করে। বাঘের ভয়ে মানুষ ঢালাওভাবে সুন্দরবনে ঢুকতে পারে না। যেসব বনে বাঘে নেই সেসব বনে মানুষ ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ায়। কারণ সেখানে বাঘের ভয় নেই।

আমাদের সংস্কৃতিতে ও পরিচয়ে

বাঘ শুধু একটি প্রাণী নয়, এর সঙ্গে জড়িত আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। যে অল্প কয়েকটি উপাদান আমাদের বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দেয় তার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার অন্যতম। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচয় বাঘ ও সুন্দরবন। বাংলাদেশে এত বড় একটি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আছে এবং সেখানে বাঘ টিকে আছে এটা আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা যদি আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য দেখি, সেখানে পরতে পরতে বাঘের উপস্থিতি- বাঘের গল্প, কবিতা পাই, সুন্দরবনের আশপাশে পটের গানের প্রচলন আছে। তার প্রধান উপকরণ বাঘ। সেখানে গানগুলোতে দেখা যায়, মধুর চাক ভাঙতে, মাছ ধরতে গিয়ে কীভাবে বাঘের সঙ্গে দেখা হয়েছে। যার ফলে পরিবেশ প্রকৃতির বাইরেও মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে বাঘের এক প্রকার অতি প্রাকৃত ভূমিকা আছে। মানুষের বিশ্বাসেও বাঘের ভূমিকা রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বলা চলে নেক্সট টু গড। নেক্সট টু গড এ জন্য বলা হয় যে, স্থানীয়ভাবে সুন্দরবনের আশপাশে কিছু জনগোষ্ঠী বনবিবি, গাজী, কালুর পূজা করে। এদের সঙ্গে কিন্তু বাঘও থাকে। সবশেষে বলতে চাই, আমরা যদি উদ্যোগী হই, সচেতন হই, তবেই বাঘ টিকে থাকবে আর বাঘ টিকে থাকলে টিকে থাকবে সুন্দরবন।

অনুলিখন : আবু নাঈম