তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর পাঁচ মাসে আফগানিস্তানে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। চাকরি হারানো ব্যক্তিদের বেশিরভাগই নারী। স্থানীয় সময় গত বুধবার এ তথ্য জানায় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। খবর এএফপির।

জাতিসংঘের এ সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি কর্মহীনের সংখ্যা বেড়ে সাত লাখের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের বিধিনিষেধের কারণে চাকরি হারানোর সংখ্যা ৯ লাখেও পৌঁছাতে পারে।

আইএলও বলছে, গত বছরের তিন-চতুর্থাংশে কর্মহীনের হার ১৬ শতাংশ কমেছে। আর এ বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কর্মহীনের হার ২১ থেকে ২৮ শতাংশের মাঝামাঝি হতে পারে। সবমিলিয়ে বৈশ্বিক সূচকে নারীদের কর্মসংস্থানের হার খুবই কম। আফগানিস্তানে নিযুক্ত আইএলওর জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী রামিন বেহজাদ বলেন, তালেবানের দখলে যাওয়ার পর দেশটি কঠোর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির স্থিতিশীলতা রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে সহযোগিতা প্রয়োজন। সংস্থাটি জানায়, মানবিক ত্রাণ এবং মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর সেটা নির্ভর করবে কর্মসংস্থানের ওপর।

আফগানিস্তানে কট্টরপন্থিরা ক্ষমতায় আসায় বিশেষ করে কৃষি ও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কর্মহীন হয়ে পড়ার ঘটনা বেশি ঘটেছে। এসব খাতে কর্মীদের হয়তো চাকরিচ্যুত করা হয়েছে অথবা বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্মাণ খাতে পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৯৯ শতাংশ পুরুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারণ, বড় প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আইএলও আরও বলছে, তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক সহায়তা না থাকায় শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত বছর ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবান।

মন্তব্য করুন