দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় চাপের মুখে পড়েছেন মিয়ানমানের জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হদ্মাইং। এই সিদ্ধান্ত জানার পর গত সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, মানবিক বিবেচনায় পাঁচ হাজারের বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে মিয়ানমারে চলমান অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার জন্য বিরোধীদের দায়ী করেছেন তিনি। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। পরে নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দেন সেনাপ্রধান জেনারেল হদ্মাইং। তবে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই গণতন্ত্রকামীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে পড়ে জান্তা। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সামরিক শাসনের বিরোধিতা করায় অন্তত এক হাজার ১৭৮ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বিক্ষোভকারীকে। তাদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৬৩৬ রাজবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিলেন জান্তাপ্রধান।

মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) রোডম্যাপ অনুযায়ী পাঁচটি প্রতিশ্রুতির কোনোটিই বাস্তবায়ন করেনি মিয়ানমারের জান্তা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জান্তাপ্রধানকে আসিয়ান সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তার পরিবর্তে মিয়ানমার থেকে একজন অরাজনৈতিক প্রতিনিধিকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। জান্তাপ্রধানের অভিযোগ, সহিংসতার জন্য বিরোধীরা দায়ী। নিষিদ্ধ ঘোষিত জাতীয় ঐকমত্যের সরকার (এনইউজি) ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র দলগুলো আসিয়ানের প্রস্তাবিত শান্তি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করছে।

মন্তব্য করুন