নেপালে দূরদর্শন ছাড়া ভারতীয় সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অপমানজনক সংবাদ প্রচারের জের

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০

সমকাল ডেস্ক

দূরদর্শন ছাড়া ভারতের সব টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে নেপাল। ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে নিয়ে ভিত্তিহীন ও অপমানজনক সংবাদ প্রচারের জেরে আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় নেপাল সরকারের মুখপাত্র যুবরাজ খতিওয়াদা। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। খবর এএফপি, এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

কেপি শর্মা ওলি মন্ত্রিসভার সদস্য যুবরাজ খতিওয়াদা বলেছেন, নেপালে যেসব বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার চালায়, তাদের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য রাজনীতিকদের চরিত্র হনন করতে দেওয়া হবে না। সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে কী কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, কাঠমান্ডু তা খতিয়ে দেখছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

খতিওয়াদা বলেন, গণমাধ্যমের কোনো বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করতে চাই না। কিন্তু কেবল বিদেশি গণমাধ্যমই নয়, নেপালের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে, নেপালের নাগরিক কিংবা রাজনীতিকদের চরিত্র হনন করতে দেখা গেলে কিংবা আপত্তিকর অনুষ্ঠান প্রচার করলে এমনকি দেশি টেলিভিশন চ্যানেলের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলি ও চীনের রাষ্ট্রদূত হু ইয়ানচিকে নিয়ে বেশ কয়েকটি ভারতীয় চ্যানেলে প্রচারিত আপত্তিকর অনুষ্ঠান নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে এমনটাই বলেন তিনি। তার এ মন্তব্যের কিছু সময় পরই নেপালে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলো একে একে 'ব্ল্যাক আউট' হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার নেপালের রাষ্ট্রদূত নীলাম্বর আচার্য্যও নয়া দিল্লির কাছে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে নেপালি নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলে বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ চ্যানেল জি নিউজে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশটিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত হু ইয়ানচির সম্পর্কের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর খবর প্রচার করা হয়েছে। চ্যানেলটি কোনো ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করেছে।

যদিও নেপাল সরকার বলছে, তাদের এখতিয়ার থাকলেও এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। দেশটির ক্যাবল অপারেটররা স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেরাই সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

নেপালের মানচিত্র নিয়ে সম্প্রতি কাঠমান্ডু ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত নতুন মানচিত্রে এমন কিছু জায়গা স্থান পেয়েছে যেগুলোকে ভারতও নিজেদের বলে দাবি করে আসছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নেপালের রাজনীতিতে চীনের প্রভাব নিয়ে নয়া দিল্লির দুশ্চিন্তার বিষয়টি গোপন নয়। ওলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল প্রচন্ডের মধ্যে বিরোধ মেটাতে নেপালে চীনের রাষ্ট্রদূত হুর সাম্প্রতিক দৌড়ঝাঁপের বিষয়টিও তাদের উদ্বিগ্ন করেছে। এর মধ্যে নেপালে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধের বিষয়টি দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও উসকে দিতে পারে।

খতিওয়াদার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপালি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির শীর্ষ উপদেষ্টা বিষ্ণু রিমাল বলেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে যে ধরনের খবর ও মন্তব্য দেখা যাচ্ছে তা খুবই আপত্তিকর এবং নিন্দা করার মতো। ভারতীয় টিভি চ্যানেলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নেপাল ও ভারত এবং দু'দেশের জনগণের মধ্যে থাকা অনেক পুরোনো বন্ধুত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।