জর্জ ফ্লয়েড হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভের ঢেউ অস্ট্রেলিয়ায়

ক্যালিফোর্নিয়া, মিনিয়াপোলিসে কারও গলা বা ঘাড় চেপে ধরতে পারবে না পুলিশ

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভের ঢেউ অস্ট্রেলিয়ায়

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ এখন পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক আন্দোলনে। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিক্ষোভকারীর বজ্রমুষ্ঠি যেন এ আন্দোলনের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তাই প্রকাশ করছে- এএফপি

পুলিশি নিপীড়ন, বৈষম্য আর বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের ঢেউ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে আছড়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। গতকাল শনিবার অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার (কালোদের জীবনও মূল্যবান) আন্দোলনে অংশ নিতে রাস্তায় নেমেছিল হাজার হাজার মানুষ। অন্যদিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার টানা ১১ দিনের মতো বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এদিন দেশটির কয়েকটি স্থানে পুলিশের শক্তি প্রয়োগে লাগাম পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট আন্দোলন থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিক্ষোভকারীরা। তারা নিজ দেশের আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্য ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত তিন দশকে অস্ট্রেলিয়ায় চার শতাধিক আদিবাসী পুলিশি হেফাজতে নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কায় সিডনির বিক্ষোভ বাতিল করেছিল নিউ সাউথ ওলেসের সুপ্রিম কোর্ট। তবে শেষ মুহূর্তে এসে আদালতের আপিল বিভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে বিক্ষোভের অনুমতি দেন।

সিডনি ছাড়াও গতকাল ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, হোবার্ট, অ্যাডিলেডসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও অবশ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে সিডনির সেন্ট্রাল স্টেশন এলাকায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর পিপার স্প্রে ছুড়লে কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। সিডনির বিক্ষোভে ২০ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী যোগ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও আদালত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঁচ হাজার আন্দোলনকারীর অংশগ্রহণের সংখ্যা বেঁধে দিয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা অনুযায়ী এক জায়গায় ১০ জনের বেশি জমায়েত হওয়া নিষেধ। ভিক্টোরিয়া পুলিশ বলেছে, সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘনকারী প্রত্যেক বিক্ষোভকারীকে এক হাজার ১৫০ ডলার জরিমানা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন সব ছোট ছোট শহরে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়েছে যেগুলোর নামই হয়তো অনেকে শোনেনি। প্রায় সর্বত্রই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে। নিউইয়র্কে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ দিতে দেখা গেছে। ম্যানহাটনে পুলিশের হাতে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। নিউ অরল্যান্ড, আটলান্টায় বড় বিক্ষোভ হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করেছে আন্দোলনকারীরা। ন্যাশনাল গার্ড ও ফেডারেল ফোর্স প্রত্যাহার করা হয়েছে ওয়াশিংটন থেকে। কয়েকটি শহরে কারফিউ বহাল থাকলেও পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় কিছু শহর থেকে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই মিনিয়াপোলিসে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। এই শহরে গত ২৫ পুলিশের হাতে নিহত হন ফ্লয়েড। এই ঘটনার পর বিক্ষোভে বেসামাল হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবগুলো শহর।

কোনো ব্যক্তির গলা বা ঘাড় যাতে পুলিশ সদস্যরা লাঠি, হাত বা পা দিয়ে চেপে ধরতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে মিনিয়াপোলিস কর্তৃপক্ষ। সিয়াটলের মেয়র জেনি ডারকান বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের টিয়ার গ্যাস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। শুক্রবার থেকে এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে এবং তা এক মাস বহাল থাকবে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম রাজ্য পুলিশকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, কারও গলা চেপে ধরতে পারবে না পুলিশ।

এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভের সময় নিউইয়র্কের বাফেলোতে ৭৫ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ৫৭ পুলিশ কর্মকর্তা ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম থেকে পদত্যাগ করেছেন। বাহিনীতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সূত্র : বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা।