সহযোগিতা করবে না হোয়াইট হাউস

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তে কোনোরকম সহযোগিতা করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে অভিশংসন তদন্তের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সে প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। খবর সিএনএন, রয়টার্স ও পার্স টুডের।

চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিনিধি পরিষদের যে তিনটি কমিটি ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে, তারা সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো তথ্য পাবে না। সরকারি কোনো কর্মকর্তাও আর তাদের ডাকে সাড়া দেবেন না। প্রতিনিধি পরিষদের ওই তিনটি কমিটিরই প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিরা।

হোয়াইট হাউসের এ পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্রের দুই প্রধান শাখার মধ্যে সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব জটিল আকার ধারণ করতে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই অভিশংসন প্রক্রিয়া সংবিধানসম্মত নয় এবং এ-সংক্রান্ত যে তদন্ত শুরু হয়েছে, তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মধ্যকার একটি টেলিফোন আলাপ ফাঁস হয়। ওই ফোনালাপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ওই ফোনকলের অনুলিপিও গোপন করতে চেয়েছিল হোয়াইট হাউস। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। হোয়াইট হাউসের ফোনকলের প্রতিলিপিতে দেখা গেছে, ট্রাম্প গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এই তদন্তের জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিলেন। ওই ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি সামনে আসে। ট্রাম্পকে তার পদ থেকে সরাতে তদন্ত শুরু করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এ ইস্যুতে নিজের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগকে ন্যক্কারজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প।

ওই ফোনকলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো আনুকূল্য চেয়েছেন কি-না? সম্প্রতি সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, 'দেখুন, আমি মনে করছি, তারা যদি এতে সৎ হয়ে থাকে, তাহলে বাইডেনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত শুরু করতে পারে। এটা খুবই সহজ উত্তর। তাদের উচিত বাইডেনদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা।'

ট্রাম্প বলেন, 'একই রকমভাবে চীনও বাইডেনদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারে। কারণ, চীনে যা ঘটেছিল, তা ইউক্রেনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতোই খারাপ।'

এদিকে, ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তকে অভিশংসন তদন্তের অন্তরায় বা বাধা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। কিন্তু একে গোলমেলে বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে তদন্তকারী কমিটিগুলোকে ট্রাম্প নিজে ক্যাঙারু আদালত হিসেবে ব্যঙ্গ করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্ত তার সে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপেরই প্রতিফলন। আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার আগেই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি রুডলফ ডব্লিউ গিলিয়ানির বক্তব্য থেকেই এর আঁচ পাওয়া গিয়েছিল। মঙ্গলবারই গিলিয়ানি বলেছিলেন, তিনি তো সহায়তা করবেনই না, এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের কেউই এতে অংশ নেবে, এটাও মনে করেন না।