চীনা ভিসায় কড়াকড়ি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের অভিযোগে দেশটির কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে। মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর একদিন আগে একই অভিযোগে চীনের ২৮ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার কথা জানায় ওয়াশিংটন। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ব্যাপারেও কড়াকড়ি আরোপের পরিকল্পনা করছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে বলেছেন, চীন সরকার জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর, কাজাখ ও কিরগিজ মুসলিম সংখ্যালঘু জাতিসত্তা নির্যাতনের বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। গণ আটকের পর তাদের বন্দিশালায় ঢোকানো হচ্ছে, উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি দিয়ে তাদের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পম্পেও। চীন এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ তুলছে তা জিনজিয়াং প্রদেশে ঘটছে না। বরং এসব অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে।

অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়ে আসছে বেইজিং। এজন্য চীন সরকার জিনজিয়াং প্রদেশে বেশকিছু বন্দিশালাও নির্মাণ করেছে। চীন বলছে, উগ্রপন্থা রুখতে উইঘুর মুসলিমদের 'কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে' রাখা হয়েছে। সেগুলো বন্দিশালা নয়। তবে বিভিন্ন বন্দিশালায় প্রায় ১০ লাখ মুসলিমের ওপর বেইজিংয়ের নিপীড়নের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা। তিব্বতের মতো জিনজিয়াংও স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ। এখানকার অধিবাসীর ৪৫ শতাংশই উইঘুর সম্প্রদায়ের এবং নৃতাত্ত্বিকভাবে যারা টার্কিশ মুসলিম। প্রদেশটির ৪০ শতাংশ অধিবাসী হান। এই হানরা চীনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিসত্তা। গত জুলাইয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ২০টিরও বেশি দেশ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চীনের নিপীড়নের সমালোচনা করে লেখা একটি যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিল।