অমিত শাহর হুঁশিয়ারি

অবৈধদের পুরো ভারত থেকেই তাড়ানো হবে

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

শুধু আসাম নয়, পুরো ভারত থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে। তাদের তালিকা করে ধরে ধরে দেশছাড়া করা হবে। একজনও অবৈধ অভিবাসী ভারতে থাকতে পারবে না। আসামের গৌহাটিতে নর্থ-ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনইডিএ) দু'দিনের সম্মেলনের শেষ দিন গতকাল সোমবার এসব কথা বলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। আসামে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকা থেকে ১৯ লাখ বাসিন্দার নাম বাদপড়ায় অস্বস্তিতে থাকার পরও এ বিষয়ে আরও শক্ত অবস্থান জানান দিলেন তিনি। এনইডিএ হলো বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সংস্করণ। এ অঞ্চলের সাত রাজ্যে কংগ্রেসবিরোধী দলগুলো নিয়ে এনইডিএ গড়ে তোলে বিজেপি। এর সভাপতি অমিত শাহ নিজেই। এদিন তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস আমলে এই সাত রাজ্যকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। গত রোববার সম্মেলনের প্রথম দিনে তিনি একই ধরনের কথা বলেছিলেন।

অমিত শাহ বলেন, 'এনআরসি নিয়ে অনেকে অনেক রকম প্রশ্ন তুলেছেন। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভারত সরকার একজন অনুপ্রবেশকারীকেও ভারতে থাকতে দেবে না। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি।' কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো আসাম সফরে এলেন অমিত শাহ। ১৯৫৮ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আসামকে সবচেয়ে উপদ্রুত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত আসামের চূড়ান্ত এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের ১৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৭ মানুষ। তবে এ তালিকা নিয়ে খুশি নয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। আসামের রাজ্য সরকারেও জোট শরিক দলটি। বিজেপি ও তার মিত্রদের প্রত্যাশা ছিল, এ তালিকাকে হাতিয়ার করে আরও অধিক সংখ্যক মুসলমানের নাগরিকত্ব বাতিল করে তাদের রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত করা হবে। ফলে তালিকায় আরও বেশি সংখ্যক মুসলমানের নাম বাদ না পড়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে আসামের এনইডিএ শরিকদের। এনইডিএর সমন্বয়ক আসাম বিজেপি নেতা হিমান্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি আসামের অর্থমন্ত্রী। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তিনি বলেছিলেন, এনআরসি নিয়ে বিজেপি সন্তুষ্ট নয়। আরও বেশি সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর (মুসলিম) নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার কথা। রাজ্য থেকে সব বিদেশিকে তাড়িয়ে দিতে বিজেপি কাজ করে যাবে। তবে তালিকা থেকে বাদপড়া ১১ লাখ হিন্দুকে তালিকাভুক্ত করতেও কাজ করছেন তারা। এর মধ্যে সবার নাম যদি তালিকায় নাও ওঠে, তাহলে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার যে আইন করতে যাচ্ছে বিজেপি সরকার, তার মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে।

২০১৮ বিধানসভা নির্বাচন ও ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ইশতেহারে অন্যতম গুরুত্ব পায় এনআরসি। এ বছরের গোড়ার দিকে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের (বাংলাভাষী মুসলমান) 'উইপোকা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন অমিত শাহ। তিনি বলেছিলেন, অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার মাটিতে উইপোকার মতো। বিজেপি সরকার তাদের এক এক করে তুলে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলবে। অমিত শাহ তার বক্তব্যে অবৈধ মুসলমান অভিবাসী বলতে তাদের বাংলাদেশি হিসেবে ইঙ্গিত করেন। এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেও মুসলমান অভিবাসীদের উইপোকা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন অমিত শাহ। সে সময় দলীয় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ভারতে থাকা 'অবৈধ বাংলাদেশি'দের শনাক্ত করে তাদের এক এক করে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। একই বছরের আগস্টে কলকাতায় বিজেপির এক সমাবেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতেই ভারতে নাগরিক তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি হচ্ছে বেছে বেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় এটি বন্ধ হবে না। তবে এ মুহূর্তে বিজেপির এনআরসি ইস্যুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। শুধু তাই নয়, আসামে তালিকায় বাদপড়াদেরও সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা। সূত্র :এনডিটিভি।