আমাজন রক্ষায় ৭ দেশের চুক্তি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ভয়াবহ দাবানলে পুড়তে থাকা বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিরহরিৎ বৃষ্টি-অরণ্য আমাজন রক্ষায় দক্ষিণ আমেরিকার সাত দেশ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দেশগুলো হলো- ব্রাজিল, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, পেরু ও সুরিনাম। চুক্তিতে দুর্যোগ মোকাবেলা নেটওয়ার্ক ও স্যাটেলাইট নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নতুন বনায়নের কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে আমাজন নদী অববাহিকার দেশগুলো এ চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে পরিবেশবাদীরা চুক্তিকে আশাবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশ্নিষ্ট দেশগুলোকে কাজের মধ্য দিয়ে আমাজন রক্ষার প্রমাণ দিতে অনুরোধ করেছেন। খবর বিবিসি ও এএফপির।

টানা চার সপ্তাহ ধরে পুড়ে চলেছে 'পৃথিবীর ফুসফুস'খ্যাত আমাজন। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে প্রায় ৮৩ হাজার বার আগুন লেগেছে এ বনে। অতীতে কখনও এত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর ৮৫ শতাংশ বেশি আগুন লেগেছে। আমাজনের আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে যুদ্ধবিমান থেকে পানি ঢালা হচ্ছে।

কলম্বিয়ার লেটিসিয়া শহরে আয়োজিত সম্মেলনে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে বলেছেন, এ সম্মেলনটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আমাজনের অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ব্যবস্থা করবে। পেরুর প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা বলেছেন, কেবল শুভেচ্ছা জানানোই এখন আর যথেষ্ট নয়। শিক্ষা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। এ জন্য আরও বেশি প্রচেষ্টা চালাতে রাজি হয়েছে সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাত দেশের নেতারা। সাতটি দেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রীরা লেটিসিয়ায় নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ট্রাম্প-ভক্ত হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ায় সম্মেলনে হাজির হতে পারেননি তিনি। তবে উন্নয়নের আমাজন উজাড় করার নীলনকশা করায় বিশ্বজুড়ে নিন্দিত হচ্ছেন বোলসোনারও। চুক্তিতে সম্মত হলেও সাত দেশের সম্মেলনের আগের দিন তিনি বলেছিলেন, আমাজনে উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াবেন না। ফলে আমাজনের ব্রাজিল অংশে বন ধ্বংস ঠেকাতে আসলেই কতটা ভূমিকা রাখবেন তিনি, তা প্রমাণসাপেক্ষ ব্যাপার।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রীষ্ফ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চল আমাজনের মোট আয়তনের প্রায় ৬০ শতাংশই পড়েছে ব্রাজিলের মধ্যে। তবে আগুনের রুদ্রমূর্তি কেবল ব্রাজিল অংশের আমাজনে নয়, লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোতেও দেখা যাচ্ছে।