মোদি-ইমরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান ট্রাম্পের

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার মোদি ও ইমরানের সঙ্গে আলাদাভাবে টেলিফোনে কথা বলে তাদের কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে একটি টুইট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। সেখানে মোদি ও ইমরান, দু'জনকেই 'ভালো বন্ধু' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে সোমবার রাতে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের পর ৩০ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে। অবশ্য কারফিউ শিথিল হলেও স্কুল, অফিস-আদালত ছিল ফাঁকা। আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। খবর এএফপি, রয়টার্স, দ্য ডন ও এনডিটিভির।

৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সোমবারই প্রথম ট্রাম্পকে ফোন দিয়ে ত্রিশ মিনিট কথা বলেন মোদি। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে কথা বলেছেন মোদি-ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি ফোনালাপে মোদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনেরও আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে মোদির সঙ্গে কথা বলার পরপরই ইমরানকে ফোন দেন ট্রাম্প। সোমবার রাতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি এ কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ট্রাম্পকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন ইমরান। ট্রাম্প এ সময় দুই দেশকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল ট্রাম্প দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের বিষয়টি নিয়ে একটি টুইট করেন। সেখানে ইমরান-মোদি দু'জনকেই ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, পরিস্থিতি জটিল, তবে দু'জনের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার দিল্লির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাতে শ্রীনগরে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ১৫ দিন ধরে ফোন-ইন্টারনেট বন্ধ এবং জনগণের চলাফেরায় ব্যাপক কড়াকড়ির মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শ্রীনগরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জায়গায় সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে তরুণ কাশ্মীরিরা। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাথর ছোড়ার অভিযোগে ৩০ জনকে আটক করা হয়। অবশ্য ইতিমধ্যে কাশ্মীর থেকে চার সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

অন্যদিকে সোমবার থেকে কাশ্মীরে স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলবারও এসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। অভিভাবকরা বলেছেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকায় তাদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না তারা।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে আহত এক শিশু সোমবার মারা গেছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।