এনআরসিতে নাম নেই ভেঙে গেল বিয়ে

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

আসামে খসড়া নাগরিক নিবন্ধন তালিকায় (এনআরসি) নাম নেই রাজ্যটির প্রায় ৪০ লাখ বাসিন্দার। আসামে জন্ম, সেখানে বেড়ে ওঠা এবং ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে আসামে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও কারাগারে যাওয়ার আতঙ্কে বেশ কয়েকজন আত্মহত্যাও করেছে। এবার এর প্রভাব পড়ল সামাজিক সম্পর্কেও। এনআরসিতে পাত্রের নাম না থাকায় বিয়ে ভেঙে দিল কনের পরিবার। সম্প্রতি আসামের শিলচরে এ কাণ্ড ঘটেছে। শিলচরের নয়াগ্রামের বাসিন্দা দিলওয়ার হুসেন লস্করের সঙ্গে রাবিনা নামে এক তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। বেশ কিছু দিন ধরেই তাদের মধ্যে চেনাজানা ছিল। তারা পরম্পরকে বিয়ে করার অনুমতি চাইলে দুই পরিবারই সম্মতি দেয়। সে অনুযায়ী বিয়ের আয়োজনও প্রায় শেষ এবং দিন কয়েক পরেই বিয়ের কথা ছিল। হঠাৎ পাত্রীর বাবা কুতুব উদ্দিন বারো ভুঁইয়া তার হবু জামাতা দিলওয়ারের কাছে জানতে চান, এনআরসিতে তার নাম আছে কি-না। তখন দিলওয়ার জানান, নাগরিক নিবন্ধন পরীক্ষায় তিনি পাস করতে পারেননি। যদিও চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হবে, তবু তার আগেই বিয়ে বাতিল করে দেন কুতুব উদ্দিন। ভারতীয় নন, এমন কারও সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে দিলওয়ারের পরিবারকে জানিয়ে দেন তিনি। এ

নিয়ে দিলওয়ারের পরিবারও ভেঙে পড়েছে।

এদিকে, বাবার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার সাহস দেখিয়েছেন রাবিনা। সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হওয়া সম্ভব নয় বুঝতে পেরে দিলওয়ারের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন তিনি। তবে রাবিনার বাবা কুতুব মেয়েকে ফিরে পেতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। দিলওয়ারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন কুতুব উদ্দিন। পুলিশ তাদের খুঁজছে। শুধু রাবিনার বাবাই নন, আসামে এখন এনআরসি আতঙ্ক তাড়া করছে ৪০ লাখ মানুষকে। সূত্র :এই সময়।