কাশ্মীরে উৎকণ্ঠা

এমন ঈদ কখনও আসেনি

ছররা গুলিতে আহত ১২, আরও সেনা মোতায়েন হচ্ছে, ৩১ অক্টোবর কেন্দ্রশাসিত দুই অঞ্চলের যাত্রা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

এমন ঈদ কখনও আসেনি

শনিবার জম্মুতে যুব কংগ্রেসের জম্মু-কাশ্মীর শাখার বিক্ষোভ থেকে দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ - এএফপি

এক সপ্তাহ হতে চলল, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অচলাবস্থা। বিশ্বজুড়ে ঈদুল আজহার আমেজ বইছে। তবে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরবাসীর মনে নেই ঈদের আনন্দ। ক্ষোভ, অবিশ্বাস, ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। ঈদ সামনে রেখে আগের বছরগুলোতে শ্রীনগরের লালচকে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পার্বত্যাঞ্চলের বাসিন্দারা তাদের ভেড়া নিয়ে আসত বেচতে। কিন্তু এবার কাশ্মীরে নেই ঈদের কোলাহল। সেনাবাহিনী ছাড়া রাস্তায় মানুষের তেমন আনাগোনা নেই। এমন ঈদ কাশ্মীরবাসী আগে কখনও করেনি। এই উৎকণ্ঠার মধ্যেই জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে জম্মু-কাশ্মীরে আরও সেনা মোতায়েন করতে পারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। গতকাল শনিবার হিন্দু অধ্যুষিত জম্মু, লাদাখের বৌদ্ধ অধ্যুষিত লেহ জেলা থেকে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে এবং খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ। এদিকে ৩১ অক্টোবর থেকে যাত্রা শুরু হচ্ছে কেন্দ্র শাসিত দ্বিখণ্ডিত জম্মু-কাশ্মীরের। ওইদিনে ভারতের জাতীয়তাবাদী নেতা সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিন। সে জন্য ৩১ অক্টোবরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও ইন্ডিয়া টুডের।

গতকাল শ্রীনগরে এটিএম বুথ ও খাবারের দোকানগুলোর সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঈদ উপলক্ষে কাশ্মীরে ১৪৪ ধারা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। ফলে মানুষ চাচ্ছে কিছু খাবার সংগ্রহ করে রাখতে। এর আগে-পরে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ায় শ্রীনগরের আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ এসব বিক্ষোভে অংশ নেয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও ছররা গুলি ছোড়ে। ছররায় গুলিবিদ্ধ হয় অন্তত ১২ জন।

স্থানীয়রা জানান, কঠোর নিয়ন্ত্রণ আর চেকপোস্টের নজরদারিতে জীবন কাটছে। এটিএম বুথগুলোতে টাকা শেষ হয়ে গেছে। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, ঈদ উদযাপন করতে কাশ্মীরবাসীর কোনো সমস্যা হবে না। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, কাশ্মীরের অচলাবস্থা ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিছুটা সচল হবে কি-না, সে বিষয়ে আজ রোববার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ভারত সরকার।

দু'দিন অবরুদ্ধ কাশ্মীরে ঘুরে সেখানকার কিছু চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বিবিসির সাংবাদিক গীতা পান্ডে। তিনি লিখেছেন, শ্রীনগরের খানইয়ার এলাকা ভারতবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শহরজুড়ে শুধুই সেনা ব্যারিকেড। সেসব ব্যারিকেড পেরিয়ে গাড়ি থেকে কিছুক্ষণের জন্য নামলে কয়েকজন কাশ্মীরি তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার সময় এক বৃদ্ধ চিৎকার করে বলতে থাকেন, 'আপনারা আমাদের রাত-দিন কারারুদ্ধ করে রেখেছেন।' পুলিশ বলল, কারফিউ চলছে; আপনারা চলে যান। কিন্তু লোকজন আগের মতো দাঁড়িয়ে থাকলেও গীতাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে পুলিশ। কিন্তু যাওয়ার আগে এক তরুণ তার ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে এগিয়ে এসে গীতাকে বলেন, তিনি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। এর পর ছোট ছেলেকে দেখিয়ে তিনি বললেন, 'আমার ছেলেটা অনেক ছোট। তবে আমি তাকে খুব শিগগির বন্দুক চালানো শেখাব।'