মোদির বিরুদ্ধে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কারের পর আকথা-কুকথা বলা ও নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের কারণে নেতানেত্রীদের শাস্তি দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বেলায় তার প্রয়োগ ঘটছে না বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন নিয়ে কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা দেশবাসীকে অন্ধকারে রেখেছে। এদিকে গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী প্রচার আর বিজ্ঞাপন হিসেবে পাঁচ হাজার কোটি রুপি খরচ করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা।

রাফাল নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এ ছাড়া অন্য কয়েকজন নেতাকেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভর্ৎসনা করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলওয়ামা-বালাকোটের উদাহরণ দেখিয়ে ভোট চাওয়ার মধ্য দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। আট দিন আগে মহারাষ্ট্রের লাতুরে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা করা সেনাদের কথা ভেবে ভোট দিতে বলেন।

কমিশন অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার ফের জানিয়েছে, বিষয়টি বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট এলেই প্রধানমন্ত্রীকে নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের লাতুরে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা করা সেনাদের কথা ভেবে ভোট দিতে বলেন। তিনি কোনো দলের নাম নেননি ঠিকই, কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, মোদি বিজেপির হয়েই ভোট চাইতে গিয়েছিলেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সংশ্নিষ্ট জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। রিপোর্ট দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আসার পরই তা সংশ্নিষ্ট কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেড়ার কথায়, 'ওই মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যতে কী রয়েছে, তা নিয়ে দেশবাসীকে অন্ধকারে রেখেছে কমিশন। তাদের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া।'

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি সংবেদনশীল। তা ছাড়া খোদ প্রধানমন্ত্রী জড়িত রয়েছেন। তাই সবদিক খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মোদির মন্তব্য ঘিরে এখনও কোনো পদক্ষেপ না নিলেও 'নমো টিভির সম্প্র্রচারে বাঁধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কমিশন। বাকি পাঁচ দফা ভোটের আগে যাতে ওই চ্যানেলে নির্বাচনী প্রচার-সংক্রান্ত কোনো অনুষ্ঠান না চলে, তা নিশ্চিত করতে দিল্লির প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই চ্যানেলে গতকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠান চলেছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

৫ বছরে ৫ হাজার কোটি রুপি প্রচার খরচ :যেভাবে অনেক রেকর্ড ভেঙে ২০১৪ সালে নির্বাচনে জিতেছিলেন নরেন্দ্র মোদি, ঠিক সেভাবে গত পাঁচ বছরে প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাতে পাঁচ হাজার কোটি রুপি খরচ করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার পত্রিকার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোথাও অর্ধেক হয়ে পড়ে আছে প্রকল্প, কোথাও বরাদ্দের এক টাকাও খরচ হয়নি। তবে প্রচার আর বিজ্ঞাপনে চলছে রমরমা অবস্থা।

মোদির হেলিকপ্টারেও তল্লাশি :দু'দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হেলিকপ্টার থেকে নামানো 'কালো ট্রাঙ্ক' রহস্যের জট এখনও খোলেনি। এরই মধ্যে আবার আলোচনায় মোদির হেলিকপ্টার। এবার ওড়িশায় জনসভা শেষে ফেরার সময় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারে তল্লাশি চালান এক আইএএস কর্মকর্তা। এতে ১৫ মিনিট আটকে থাকে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। তবে শেষরক্ষা হয়নি মোহাম্মদ মহসিন নামের ওই কর্মকর্তার। প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে তল্লাশি চালানোয় চাকরিটাই গেল তার। নিয়ম ভাঙার দায়ে তাকে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্বলপুরে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে তল্লাশি

চালিয়ে ওই অফিসার যা করেছেন, তা কমিশনের নিয়মের বাইরে।