করোনা মহামারির নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার রোধে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও তা আমলে নিয়ে সচেতন হচ্ছে না ফুলবাড়ীর মানুষ। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অব্যবস্থাপনা। ফলে এ অঞ্চলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে হোটেল-রেস্তোরাঁয় খেতে বা খাবার কিনতে হলে টিকা সনদ দেখানোর বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। উপেক্ষিত হচ্ছে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও অধিকাংশ মানুষই তা আমলে নিচ্ছেন না। গণপরিবহনগুলোতে সামাজিক দূরত্ব এবং মাস্ক ব্যবহার নেই বললেই চলে। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও দেশে এ রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিস্তার রোধে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ মতে, দেশের ১২টি জেলা করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলাও রয়েছে।

এদিকে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ স্বাস্থ্য বিভাগ দিলেও তা উড়িয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই চলাফেরা করছেন অধিকাংশ মানুষ। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক মাইকিং করলেও মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা গেছে, খাবারের হোটেল বা রেস্তোরাঁয় দেখতে চাওয়া হচ্ছে না টিকা সনদ। সাধারণ মানুষ অবাধে কিনছেন খাবার। অনেকে গাদাগাদি করে হোটেলে বসে খাচ্ছেন। মাস্ক ছাড়াই খাবার পরিবেশন করছেন হোটেলের কর্মচারীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এসব ক্ষেত্রে নেই কোনো নজরদারি। পৌর শহরের খাবারের হোটেলগুলোতেও দেখা গেছে একই চিত্র।

পৌর শহরের রাজধানী হোটেলের ম্যানেজার ইমরান হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি পুরোপুরি অবগত নন। প্রশাসনের তৎপরতা না থাকার কারণে এখনও সে রকমভাবে টিকা সনদ দেখার ব্যাপারে তাড়না চোখে পড়ছে না। অনেকে এখনও টিকা দিতে পারেননি, সনদ সঙ্গে আনেননি, কেউ আবার একটি টিকা দিয়েছেন, এমন বহু কারণে টিকা সনদ দেখাতে পারছেন না ক্রেতারা।

ওই হোটেলে নাশতা করতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, 'তাড়াহুড়া করে বাসা থেকে বের হয়েছি। সকালের নাশতা করতে এসেছি। আমি টিকা দিয়েছি। কিন্তু টিকা সনদ সঙ্গে নিয়ে আসিনি। এরপর থেকে খাবার খেতে এলে নিয়ে আসব।'

ঢাকা বিরিয়ানি হাউসের কর্মচারী শাহিন বলেন, এ বিষয়ে তিনি জানেন না। এখন থেকে থেকে বিষয়টি যাচাই করবেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভ্যাকসিনের জন্য এই উপজেলায় এ পর্যন্ত এক লাখ ২৩ হাজার ৫৯৩ জন নিবন্ধন করেছেন। প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন এক লাখ ৯ হাজার ১২১ জন। দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৭৭ হাজার ১২৯ জন। বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন মাত্র এক হাজার ৭৮৪ জন। এ ছাড়া ১২-১৮ বছরের ছাত্রছাত্রীদের ১৬ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, জেলায় মোট শনাক্ত ৬৯৭ জন। এর মধ্যে ৬৮২ জন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন ১৩ জন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, আমরা যতটা পারি মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি দেখলে এর সুফল দ্রুত পাওয়া যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, করোনা বিষয়ে সরকারি বিধিনিষেধ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতন করা হচ্ছে এবং মাইকিং করে প্রচার করা হচ্ছে। শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন