গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০১৯      

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা)

ঈশ্বরদীর গ্রামে গ্রামে গরু-মহিষ চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। লাভের আশায় কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ৬-৭ মাস গবাদিপশু লালন-পালনের পর ঈদের আগে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারি ও সাধারণ কৃষক। গরু চোরদের কারণে ভেস্তে যাচ্ছে তাদের সেই লাভের স্বপ্ন।

ঈশ্বরদীর গ্রামে গ্রামে রাতভর পাহারা দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না গরু চোরদের। খামারিদের অভিযোগ, পুলিশের টহল না থাকা এবং গরু চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে গরু চুরি ক্রমেই বাড়ছে। কোরবানির ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গরু চোররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা প্রায়ই ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে ট্রাক থামিয়ে গরু-মহিষ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর, মানিকনগর, বরইচরা, পাকশী ইউনিয়নের রূপপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে এবং সাহাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহাপুর, মহাদেবপুর, আওতাপাড়া, চর গড়গড়ি গ্রামসহ লক্ষ্মীকুণ্ডা ও মুলাডুলি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ঈদকে সামনে রেখে গরু লালন-পালন করেন খামারিরা। এসব গ্রামে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন গোয়ালঘরে ট্রাক ভিড়িয়ে গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোররা। সম্প্রতি ঈশ্বরদী পতিরাজপুর গ্রামের হজো শাহের একটি গরু এবং একই এলাকার শাহাদত আলীর দুটি মহিষ পরপর ২ রাতে চুরি হয়েছে। এর দুই দিন আগে উপজেলার দুবলাচর গ্রামের ইব্রাহিম আলীর ৩টি মহিষ চুরি হয়েছে। খামারি ও কৃষকরা জানান, এভাবে বিভিন্ন গ্রাম থেকে গত এক মাসে ২০ থেকে ২৫টি গরু চুরি হয়েছে। এসব গরুর মধ্যে অধিকাংশই উন্নত জাতের গাভি ও কোরবানির জন্য কেনা ষাঁড় ও মহিষ। প্রতিটি গাভির দাম ১ থেকে ২ লাখ টাকা, কোরবানির ষাঁড়ের প্রতিটির দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি মহিষের দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। চরমিরকামারী গ্রামের হুজুর আলী অভিযোগ করে জানান, সম্প্রতি তার বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা দামের দুটি গরু চুরি হওয়ার পর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। গরু চোরকে ধরিয়ে দেওয়ার পরও গরু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ওই গরু চোরকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দিলেও গরু উদ্ধার করা যায়নি। আবার একই এলাকায় ফের গরু চুরি হয়েছে অথচ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। মূলত এসব কারণে গরু চুরি হলেও কেউ থানায় অভিযোগ বা মামলা করার আগ্রহ দেখান না।

এদিকে গরু চুরি ঠেকাতে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন ইউনিয়নে ও গ্রামে রাত জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন গরুর মালিকরা। এ বিষয়ে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা জানান, গরু চুরি রোধ করতে এরই মধ্যে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে কমিউনিটি পুলিশের সভায় এলাকাবাসী গরু চুরির বিষয়টি তুলে ধরেন। সভায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গ্রামে পালাক্রমে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি আগের চেয়ে এখন অনেক কম। যারা এজাহার দিচ্ছেন তাদের মামলা গ্রহণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ, গরু চুরির মামলায় চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। এর পরও বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরির খবর আসে। গরু চুরি ঠেকাতে আগের চেয়ে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।