গাইবান্ধা এনএইচ মর্ডান হাই স্কুল

পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে লেখাপড়া

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৭

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

'রোদ-বৃষ্টি সব সময় সচেতন থাকা নাগে (লাগে)। ছাদের দিকে চায়া (তাকিয়ে) স্যারের ক্লাসের কথা শুনি। বৃষ্টির সোমে (সময়) ছাদ চুইয়া পানি পরি বই-খাতা নষ্ট হয়া যায়। আর রোদের সময় ছাদ খুলি মাতাত (মাথায়) পরি মাতা ফাটি যায়।' কথাগুলো বলছিল এনএইচ মডার্ন হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হূদয় মিয়া। অনুরূপ অভিযোগ করে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র উজ্জ্বল মিয়া ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নূরে আলম মিয়া।
স্কুলের শিক্ষক মানিক চন্দ্র সরকার জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে তারাও আতঙ্কের মধ্যেই এসব ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে ক্লাস নিতে বাধ্য হন। তার সামনে একাধিক শিক্ষার্থীর মাথায় ছাদের আস্তর খুলে পড়লেও অবসান হয়নি ওই সমস্যার।
প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম রোকন জানান, স্কুলের তিনটি ভবনে সব মিলিয়ে ২১টি কক্ষ হলেও ৫০ বছরের অধিক সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় পুরনো দ্বিতল ভবনের ১১টি কক্ষই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নতুন ভবন দুটির ১০টি কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় পুরনো ভবনের ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফ মিয়া রিজু বলেন, কয়েকবার ভূমিকল্ফেপর পর স্কুলের পুরনো ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে বিভিম্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েও সুরাহা হয়নি। তিনি বলেন, সম্প্রতি গণপূর্ত বিভাগের স্থানীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী গাউসে আযম রতন স্কুলটি পরিদর্শন করে দ্বিতল ভবনের ১১টি কক্ষই ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।
গণপূর্ত বিভাগের স্থানীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী গাউসে আযম রতন জানান, প্রশাসনের সহযোগিতায় কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সুরাহা করা উচিত।