সরকারি জমিতে গড়ে উঠছে প্রভাবশালীদের অট্টালিকা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

দোহার উপজেলার মেঘুলা হাটের সরকারি জমি দখল করছেন প্রভাবশালীরা। এসব জমিতে ক্রমান্বয়ে গড়ে উঠছে চার-পাঁচতলা ভবনসহ একাধিক দোকানপাট। এ ছাড়া মেঘুলা হাট-বাজার সংলগ্ন খাল ভরাট করে বহুতল ভবন, মার্কেট ও দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। দেলোয়ার শিকদার, তালেব মোড়ল, আবুল হাওলাদারসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে মেঘুলা হাটের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল ভরাট করে পাকা ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করে আসছেন। এসব দোকানপাট ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায় করে আসছেন তারা।

স্থানীয়রা জানায়, পদ্মা নদী সংলগ্ন মেঘুলা হাটের অনেক আগে থেকেই পরিচিতি ছিল। এক সময় পদ্মার সঙ্গে যুক্ত খাল দিয়ে উত্তর শিমুলিয়ার আড়িয়াল বিল হয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের লোকজন যাতায়াত করত। এ খালে সারাবছর পানি থাকায় প্রচুর মাছও পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে খালটি শুকিয়ে গেছে। আর সেসব জমিও চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের দখলে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দখলের প্রথম দিকে টিনের ঘর নির্মাণ করলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেই জায়গায় পাকা ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করছেন প্রভাবশালীরা। উপজেলা ভূমি অফিসের লোকজন একাধিকবার দখলীয় এলাকা পরিদর্শন করলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। দখলকৃত জমি সরকার তাদের বরাদ্দ দিয়েছে বলে এখন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন দখলদাররা। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মেঘুলা হাটের অস্থায়ী গরুর হাটের সঙ্গে নির্মিত পাঁচতলা ভবনের মালিক দেলোয়ার সিকদার। সরকারি জমি দখল করে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি।

ভবনটির মালিক দেলোয়ার সিকদার জানান, আশির দশকে মৃত রমনী মোহন সাহার ছেলে ভেবলা সাহা, বলরাম সাহা ও রতন সাহার কাছ থেকে মেঘুলা হাট-বাজার সংলগ্ন এ জায়গা ক্রয় করেন তিনি। ভবন নির্মাণের সময় দেশে ছিলেন না তিনি। তার এক আত্মীয় সরকারদলীয় রাজনীতিবিদ, যার তত্ত্বাবধানে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

মেঘুলা বাজার কমিটির সভাপতি কাজী রুবেল জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে বার্ষিক চুক্তিতে জমি বরাদ্দ নিয়ে মেঘুলা হাট-বাজার পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেকেই খালের জমি দখল করে দোকানঘর ভাড়া দিয়ে আসছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।