প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯      

গাজীপুর প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইটি সেকশনের উপপরিচালক পরিচয় দিয়ে আসছিলেন ইল্লাম শাহরিয়া। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তার গাড়ির সামনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লেখাযুক্ত স্টিকার ব্যবহার করতেন। শুধু তাই নয়, ব্যবহার করতেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মনোগ্রাম, ওয়াকিটকি সেটসহ এসএসএফের ব্যবহূত পোশাক ও ক্যাপ। ভুয়া পরিচয় পুঁজি করে ইল্লাম শাহরিয়া চাকরি, পদোন্নতি, বদলি ও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে র‌্যাবের কাছে নালিশ করেন। র‌্যাব-১-এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর মহানগরের শিমুলতলী মৌবাগ এলাকা থেকে ইল্লামকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ইল্লাম শাহরিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইটি সেকশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর পরিচয় দিয়ে তিনি নানা রকম প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বারিধারা ডিওএইচএসের ১৩৭ নম্বর বাসায় বসবাসকারী সাদিক হাসানের ছেলে ইল্লাম শাহারিয়া। কিন্তু তিনি গাজীপুর মহানগরের শিমুলতলী মৌবাগ চত্বর এলাকার ওবায়দুল হকের বাসা ভাড়া নিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। অবশেষে র‌্যাবের জালে আটকা পড়েন ভয়ঙ্কর এই প্রতারক। র‌্যাবের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ লিখিত অভিযোগ করছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব সদস্যরা অভিযানে নামেন। কিন্তু তার ভাড়া বাসায় প্রথমে র‌্যাব সদস্যদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ সময় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন র‌্যাব সদস্যরা। বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারির নামে আইডি কার্ড, অ্যাডিশনাল ডাইরেক্টরের নামে আইডি কার্ড, ডেপুটি ডাইরেক্টরের নামে কাগজের প্রিন্ট করা কার্ড, এসএসএফ পরিচালক, সচিব, ব্রিটিশ হাইকমিশনার, বিভিন্ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন অফিসের নামে ১৫টি সিলসহ অন্তত ৩০ রকমের ভুয়া জিনিসপত্র।