কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

মোকলেছুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা)

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢাকার ধামরাইয়ে দুই শতাধিক স্থানে তিন ও দুই ফসলি কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। সক্রিয় মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা এসব ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। ভেকু মেশিন দিয়ে গভীরভাবে মাটি কেটে পুকুর খননের ফলে এসব আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কৃষিবিদরা মনে করছেন, এতে ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। অপরিকল্পিতভাবে এসব কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিন জানা গেছে, ধামরাই উপজেলায় গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক ইটভাটা। এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ মাটি দরকার। ইটভাটা মালিকরা প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ধামরাইয়ের মহিশাষী, সুতিপাড়া, মাদারপুর, বাস্তা, নয়াচর, কুল্লা, সুয়াপুর, শ্রীরামপুর, ভাটারখোলা, ধাইরা, সোমভাগ, কালামপুর, বাটুলিয়া, বড়নারায়ণপুর, বাসনা, দেপাশাই, ভালুম, শৈলান, জয়পুরা, ফুকুটিয়া, ধলকুন্ড, জালসা, কুশুরা, নান্নারসহ দুই শতাধিক স্থান থেকে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে গভীর করে কৃষি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এসব জমির মালিক অনেক সময় কিছু না বুঝেই ইটভাটার মালিকদের কাছে মাটি বিক্রি করছেন। এতে আবাদি জমি কমে গিয়ে ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ছে।

ধামরাইয়ের বালিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী জানান, টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তার দুই বিঘা কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে দিয়েছেন। ভাটা মালিকরাও ভেকু মেশিনের মাধ্যমে ট্রাক্টর ও ট্রাক দিয়ে ওইসব কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে লাইসেন্সবিহীন সহস্রাধিক ট্রাক্টর এসব কৃষি জমির মাটি বহনে সড়ক-মহাসড়ক ব্যবহার করছে। এতে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এসব ট্রাক্টরের চালকরাও অধিকাংশই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এদের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ি চালানোর বৈধ কাগজপত্র নেই।

ধামরাইয়ের আবুল বাশার কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সারাদেশের মতো ধামরাইয়েও ফসলি জমির মাটি কেটে যেভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে তাতে আগামী ১০-১২ বছর পর কৃষিজমি কমে গিয়ে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান জানান, সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধের জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না। তবে কৃষকরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।