এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর-সিল জাল করে প্রতারণা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মোবাইল ফোন ক্লোন করে চাঁদাবাজির চেষ্টার পর এবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিল নকল করে অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে এক জালিয়াত চক্র। এ ঘটনায় প্রতারক কাজী সাজাহান ও ইসমাইল ভূঁইয়া সাকেরসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার উপজেলা ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বরাত দিয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, নরসিংদীর মাধবদী থানার কান্দাইল এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে কাজী সাজাহান। তিনি দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও মৌজার ২৫ শতক সম্পত্তির জাল দলিল দাখিল করে নামজারি করেন। এর বিরুদ্ধে ওই এলাকার আবুল হাসিম মোকদ্দমা দায়ের করলে দীর্ঘ শুনানির পর গত ২ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে কাজী সাজাহানের নামজারি বাতিল করে জমির প্রকৃত মালিক আবুল হাসিমের পক্ষে নামজারির নির্দেশ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই দিন ভূমি কর্মকর্তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ভূমি অফিস ত্যাগ করেন সাজাহান। পরে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানুল হক ও বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সের স্বাক্ষর জাল ও নকল সিল তৈরি করে ছয়টি নকল হাজিরা নোটিশের কপি স্থানীয় সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন। সাবেক এসিল্যান্ড রেজওয়ানুল হক গত ১ নভেম্বর বদলিজনিত কারণে আড়াইহাজার উপজেলা থেকে নারায়ণগঞ্জ সদরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। অথচ ৬ নভেম্বর তার স্বাক্ষর ও সিল স্ক্যান করে প্রতারক সাজাহান একটি হাজিরা শিট তৈরি করে। স্থানীয় সাংবাদিকরা কপিগুলো নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সের সঙ্গে আলোচনা করলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। ভূমি অফিসের নথি চেক করে দেখতে পান কাজী সাজাহানের কাছ থেকে সরবরাহ করা সাংবাদিকদের কাছে থাকা নথি ও হাজিরা নোটিশে স্বাক্ষর ও সিল নকল, যাতে অত্যন্ত সূক্ষ্ণভাবে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স জানান, কাজী সাজাহান ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেন সাকের জাল দলিলকে খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পাঁয়তারা করেছিল। এ জন্য প্রতারক দু'জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, প্রতারক কাজী সাজাহান ও তার সহযোগী ইসমাইল হোসেন সাকেরসহ প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে।

এদিকে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত ছয়টি হাজিরা শিটকে সঠিক দাবি করে ইসমাইল হোসেন সাকের জানান, বিষয়টি তিনি আইনগতভাবে মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছেন।