সিরাজদীখানে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা ঘিরে রহস্য

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে সেতু মণ্ডল (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ২ দিন পর উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু উদ্ধার হওয়ার ৫ দিন পর সে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে নানা রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে। নিহত সেতু মণ্ডল সিরাজদীখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের গোয়ালখালী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী গোপাল মণ্ডলের মেয়ে। সে নিজ গ্রামের পার্শ্ববর্তী ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর কবি নজরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

সেতু মণ্ডলের চাচা পবিত্র মণ্ডল জানান, বুধবার সকালে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় সেতু। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করলে ওই দিন বিকেলে সে মারা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের জন্য সেতুর মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ৯ এপ্রিল সেতু মণ্ডল স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। দুই দিন পর ১১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার গোলামবাজার ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশ তার বাড়িতে খবর দিলে পরিবারের লোকজন গোলামবাজার ফাঁড়ি থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে ফেরার ৫ দিন পর বুধবার সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার গোলামবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কবিরুল ইসলাম জানান, ১১ এপ্রিল গোলামবাজার এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এতে পুলিশ ওই যুবক ও স্কুলছাত্রীকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয় ও স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সিরাজদীখান থানার ওসি মো. ফরিদউদ্দিন জানান, স্কুলছাত্রীর নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে আত্মহত্যার কারণ খুঁজে পেতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেল মিয়া (২৪) ও পলাশ রাজবংশী (২৩) নামে দু'জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ওই দু'জনকে আটক করা হয়। স্কুলছাত্রীর সঙ্গে ওই দু'জনের বেশ সখ্য ছিল বলে জানা গেছে। তারাই স্কুলছাত্রীকে অন্যত্র কোথাও নিয়ে গিয়েছিল কি-না তা জানার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কী হয়েছিল তা উদ্ঘাটনের জন্য ওই দু'জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।