অ্যাপলের একগুচ্ছ ডিভাইস

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

তৌহিদুল ইসলাম তুষার

সেপ্টেম্বর মানেই অ্যাপল পণ্যপ্রিয়দের জন্য বিশেষ মাস। কেননা প্রতি বছর এ মাসেই নতুন পণ্য উন্মোচন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে স্টিভ জবস থিয়েটারে গত মঙ্গলবার আইফোন ১১, আইপ্যাড, অ্যাপল ওয়াচ ও স্ট্রিমিং টিভিসহ একগুচ্ছ নতুন পণ্য উন্মোচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে আইফোন। আইফোন কি গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে?

৬ রঙের আইফোন

প্রথমবারের মতো ছয় রঙের আইফোন উন্মোচন করেছে অ্যাপল। গ্লাস ডিজাইনের আইফোন ১১ পাওয়া যাবে বেগুনি, সাদা, সবুজ, হলুদ, কালো ও লালরঙে। ম্যাট ফিনিশিংয়ের আইফোন ১১ প্রো ও আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স পাওয়া যাবে সবুজ, ধুসর, রূপালি ও সোনালি রঙে। প্রতিটি আইফোনে আছে নতুন এ১৩ বায়োনিক প্রসেসর। অ্যাপলের নিজস্ব তৈরি প্রসেসরটি এখন পর্যন্ত স্মার্টফোনের জন্য নির্মিত সবচেয়ে দ্রুতগতির সিপিইউ। আইফোন ১১ ডিভাইসে আছে ৬ দশমিক ১ ইঞ্চির লিকুইড রেটিনা ডিসপ্লে। ফোনটির পেছনে আছে ১২ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড ক্যামেরা ও ২এক্স অপটিক্যাল জুমসহ ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। সামনে আছে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এতে স্লো মোশনে সেলফি ভিডিও করার ফিচার এনেছে অ্যাপল। ৩১১০ এমএএইচ ব্যাটারির ফোনটি তিন সংস্করণে পাওয়া যাবে। আইফোন ১১ প্রোতে আছে ওএলইডি প্যানেল সমৃদ্ধ ৫ দশমিক ৮ ইঞ্চির ডিসপ্লে। ফোনটিতে আছে এর ১২ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স, ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ও ১২ মেগাপিক্সেলের টেলিফোটো লেন্স। সামনেও রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ওএলইডি প্যানেলে তৈরি ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি পর্দার আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স ফোনটিতে আছে সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। আইফোন ১১ প্রো আর আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্সের ক্যামেরা ফিচার, র‌্যাম ও স্টোরেজ একই। ফোনটির ব্যাটারি ৩৫০০ এমএএইচ। আইফোন ১০ আরের নতুন সংস্করণ আইফোন ১১ পাওয়া যাবে ৬৯৯ ডলারে। আইফোন ১১ প্রোয়ের দাম শুরু হয়েছে ৯৯৯ ডলার থেকে। আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্সের দাম ১০৯৯ ডলার। ফোনগুলো বাজারে আসবে ২০ সেপ্টেম্বর।

অ্যাপল ওয়াচের পর্দা জ্বলে থাকবে

নতুন অ্যাপল ওয়াচ ৫ সিরিজে যুক্ত হয়েছে অলওয়েজ অন ডিসপ্লে ফিচার, যার ফলে ওয়াচের পর্দা সবসময় জ্বলে থাকবে। এতে অতিরিক্ত ব্যাটারি খরচ হবে না। হাত না নড়ানো পর্যন্ত ডিসপ্লের ব্রাইটনেস কম থাকবে। হাত নড়ালে ব্রাইটনেস বাড়বে। পাওয়া যাবে ১৮ ঘণ্টার ব্যাকআপ। ওয়াচওএস ৬ সফটওয়্যার যুক্ত হওয়ায় এতে মেনস্টরুয়াল সাইকেল ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা থাকবে। স্মার্টওয়াচ দুটি সংস্করণে পাওয়া যাবে। শুধু জিপিএস সুবিধা সংবলিত অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৫-এর দাম পড়বে ৩৯৯ ডলার। জিপিএস ও সেলুলার সুবিধা সংবলিত ওয়াচটির দাম ৪৯৯ ডলার। আইফোনের মতো অ্যাপেল ওয়াচ বাজারে মিলবে ২০ সেপ্টেম্বর।

কম দামে আইপ্যাড

গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে সাশ্রয়ীমূল্যে আইপ্যাড উন্মোচন করল অ্যাপল। সপ্তম প্রজন্মের এই আইপ্যাডটিকে বলা হচ্ছে 'আইপ্যাড ২০১৯'। ১০ দশমিক ২ ইঞ্চি ডিসপ্লের আইপ্যাডটিতে আছে এ১০ ফিউশন প্রসেসর ও এম১০ কোপ্রসেসর। ৩২ ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সংস্করণে আইপ্যাডটি পাওয়া যাবে। দাম ৩২৯ ডলার। শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা আরেকটি সংস্করণ পাওয়া যাবে ২৯৯ ডলারে। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ২৫টি দেশে আইপ্যাড দুটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে। বিক্রি শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর।

আইওএসের দুই সংস্করণ

জুনে ডেভেলপারদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় আইওএস ১৩। একটি হলো আইওএস ১৩ আরেকটি হলো আইপ্যাডওএস। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আইফোনে ও আইপডে আইওএস ১৩ আপডেট পাওয়া যাবে। আইপ্যাডে আইপ্যাডওএস পাওয়া যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। নতুন আইওএস ১৩ সংস্করণটিতে ডার্ক মোড, পারফরমেন্স আপগ্রেড, মেসেজ, মেইল, নোটস, রিমাইন্ডার আপগ্রেড ও স্ট্রিটভিউ ফিচার থাকবে। আইফোন ৬ এবং পরবর্তী সংস্করণগুলো আইওএস ১৩ আপডেট পাবে।।