তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স হচ্ছে ভাসানটেকে

থাকবে ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরেই স্থাপন করা হচ্ছে তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স। ভাসানটেকে বোর্ডের আওতাধীন জমিতে কমপ্লেক্স করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলে এখানে বোর্ডের প্রধান কার্যালয়সহ কমপ্লেক্সে একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউটও স্থাপন করা হবে।

এ জন্য বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ১১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কমপ্লেক্স নির্মাণের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন করা যাবে। একই সঙ্গে তাঁত খাতের আগ্রহীরা ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে দেশে দক্ষ বস্ত্র প্রযুক্তিবিদ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে যা স্থানীয় তাঁতিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁতিদের তৈরি পণ্য বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে যারা পণ্য বিপণনে সংকটে পড়েন তারা উপকার পাবেন।

তাঁত বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভাসানটেকে যে জমিতে তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্সে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে বেনারসি পল্লীও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাঁত কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পরবর্তী সভায় উপস্থাপনে কাজ করছে পরিকল্পনা কমিশন।

সংশ্নিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে মিরপুরের ভাসানটেকে তাঁত বোর্ডের ৪০ একর জমিতে বোর্ডের প্রধান কার্যায়লসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার করতে নির্দেশনা দেন। তার অনুশাসনের পর বোর্ডের পক্ষ থেকে কমপ্লেক্স নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁত বোর্ডের নামে ভাসানটেকে এই ৪০ একর জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে বোর্ডের দখলে এখন পর্যন্ত আছে তিন একর। বাকি ৩৭ একর জমি এখনও বেদখল হয়ে আছে। এ জমিতে তাঁত বোর্ডের ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি বেনারসি শিল্প পল্লী স্থাপনের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৯৪ সালে। ভাসানটেক এলাকার এ জমিতে তিন শতক হিসেবে মোট ৯০৬ প্লটে ভাগ করা হয়।

জানতে চাইলে তাঁত বোর্ডের সদস্য গাজী রেজাউল করিম (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) সমকালকে জানান, প্রথম পর্যায়ে ভাসানটেকের ওই স্থানে তাঁত বোর্ড ও কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ওইখানে বেনারসি পল্লী স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও জানান, মিরপুরে বেনারসি পল্লীর তাঁতিরা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের কল্যাণে দ্রুত বেনারসি পল্লী স্থাপন করা প্রয়োজন।