তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। জনগণের কল্যাণ ও সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পরই পাল্টে ফেলেছেন রূপ। ছলে, বলে, কৌশলে জনগণের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই এখন তার কাজ। তিনি হলেন সুনামঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন (বিল্লাল নূরী)।

কাউকে নলকূপ, কাউকে খাস জমি আবার কাউকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে এরই মধ্যে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। এদিকে দীর্ঘ সময় পরও ভুক্তভোগীরা কাঙ্ক্ষিত উপকার না পেয়ে চেষ্টা করেন তার কাছ থেকে টাকা ফেরত পাওয়ার। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি। জনপ্রতিনিধির এহেন প্রতারণায় হতবিহ্বল তারা।

বছর দেড়েক আগে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেরিকান্দি গ্রামের মঞ্জিল হকের কাছ থেকে নলকূপ দেওয়ার নাম করে বড়খলা গ্রামের রফিফ বয়াতির মাধ্যমে সাড়ে আট হাজার টাকা নেন বিল্লাল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরও মঞ্জিল নলকূপ না পেয়ে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিল্লালের কাছে বারবার ধরনা দেন। কিন্তু টাকা ফেরত পাননি তিনি। ওই গ্রামের বাসিন্দা কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ূয়া সানজিদ আহমেদ সজিব মঞ্জিলের টাকাটা পাইয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সজিব কিছুদিন পরপর উপজেলা সদরে গিয়ে বিল্লালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে সজিব এ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেন। বিল্লাল ইউএনওর সামনে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও সেই টাকা আর ফেরত দেননি। এদিকে অসুস্থ শরীর নিয়ে বারবার উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল মঞ্জিলের। অবশেষে সেই টাকা ফেরত না পেয়েই গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওই দিন রাতেই সজিব বিল্লালের এমন কার্যকলাপের বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করলে তা সবার নজরে আসে।

বিল্লাল হোসেন দাবি করেছেন, তিনি যার মাধ্যমে মঞ্জিলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন, তার ভাই লোকমানের মাধ্যমে মঞ্জিলের দাফনের আগে আট হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু মঞ্জিলের ছেলে ইয়াসিন জানিয়েছেন, সে টাকা এখনও তাদের হাতে পৌঁছেনি। এদিকে সজিব বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করায় তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বিল্লালের লোকজন।

বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের হানিফ ফকির জানান, তার কাছ থেকে খাস জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার নাম করে এক বছর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন বিল্লাল।

সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা উত্তরপাড়া গ্রামের হাবি মিয়া জানান, নলকূপ দেওয়ার কথা বলে বিল্লাল আট হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে।

পাইকুরাটি ইউনিয়নের জিংলীগড়া গ্রামের আলম মিয়া জানান, এই ইউনিয়নের রাজাপুর, হিজলাসহ কয়েকটি গ্রাম থেকে নলকূপের কথা বলে লাখ খানেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিল্লাল।

তবে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন বলেন, 'টিউবওয়েলের জন্য ১০-১২ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকজনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অনেকেই টাকা ফেরত নিতে চায় না। তাদেরকে দেরিতে হলেও টিউবওয়েল দিতে হবে।' তিনি আরও বলেন, সজিব ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মেদেহী হাসান বলেন, 'নলকূপের জন্য সরকারিভাবে সাড়ে সাত হাজার টাকা জমা দিতে হয়। কেউ যদি অন্যের মাধ্যমে বেশি টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।'

ইউএনও মুনতাসির হাসান বলেন, 'ভাইস চেয়ারম্যানকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, এমন কেউ থাকলে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখব।'

মন্তব্য করুন